শাল্লা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি ও বন্যার পানিতে ফসলহানির শিকার কৃষকদের জন্য সরকারি সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে প্রস্তুত করা ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা নিয়ে শাল্লা উপজেলায় তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তালিকা প্রণয়নে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও উৎকোচ গ্রহণের অভিযোগ এনে বিক্ষোভে নেমেছেন স্থানীয় কৃষক ও এলাকাবাসী।
সোমবার (৮ জুন) দুপুরে উপজেলার ২ নম্বর হাবিবপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য সুব্রত দাসের নেতৃত্বে ক্ষুব্ধ কৃষকরা একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথে বাধার মুখে তারা মিছিল নিয়ে হাবিবপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নাম তালিকা থেকে বাদ দিয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি ও অকৃষকদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে প্রকৃত ভুক্তভোগীরা সরকারি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগের তীর ২ নম্বর হাবিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বাবলু মেম্বারের দিকে। তাদের দাবি, তালিকা প্রস্তুতের সময় যোগ্য কৃষকদের উপেক্ষা করে নিজের পছন্দের ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
অন্যদিকে, উপজেলার ৪ নম্বর শাল্লা ইউনিয়নের সদস্য আব্দুল হাই মেম্বারের বিরুদ্ধেও অর্থের বিনিময়ে নাম অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করে তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।” এ বিষয়ে অভিযুক্ত বাবলু মেম্বার বলেন, “সবার চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এজন্য একটি স্বার্থান্বেষী মহল আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।”
ঘটনার বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিয়াস চন্দ্র দাস জানান, “যদি কোনো প্রকৃত কৃষকের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ে থাকে কিংবা অযোগ্য কেউ তালিকাভুক্ত হয়ে থাকেন, তাহলে লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হবে। এখনও তালিকা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে।”
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ভুক্তভোগীদের চিহ্নিত করে তালিকা চূড়ান্ত করা এবং সরকারি সহায়তা সুষ্ঠুভাবে বিতরণ নিশ্চিত করা হোক।