সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে চোর সন্দেহে ফেসবুকে লাইভ ভিডিও করে এক যুবককে মারধর করেছেন সেখানকার ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) এক সদস্য। ওই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন জয়নাল আহমদ নামের ওই ইউপি সদস্য।
তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যাবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আজিজুন্নাহার।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের ছত্রিশ গ্রামে চুরির অভিযোগে এক যুবককে আটকে স্থানীয় ইউপি সদস্য জয়নাল আহমদের কাছে নিয়ে যান এলাকার কিছু লোক। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে ওই যুবককে পাইপ দিয়ে মারধর শুরু করেন জয়নাল। এই মারধরের দৃশ্য নিজের ফেসবুক একাউন্ট থেকে লাইভ সম্প্রচার করেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, অভিযুক্ত যুবককে সামনে বসিয়ে স্থানীয়দের উদ্দেশে বক্তব্য দিচ্ছেন জয়নাল আহমদ। তিনি বলেন, এলাকায় ধারাবাহিকভাবে চুরির ঘটনা ঘটছে। চোরদের ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে সোপর্দ করা হলেও তারা অল্প সময়ের মধ্যেই ফিরে এসে আবার একই ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।
ভিডিওতে তাকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলতে শোনা যায়, প্রয়োজনে ব্যক্তিগত ক্ষতি হলেও তিনি গ্রামের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি চান। একপর্যায়ে হাতে থাকা প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে ওই যুবককে আঘাত করতেও দেখা যায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সম্প্রতি এলাকায় চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পানির মোটর, বৈদ্যুতিক তার, গবাদিপশু ও বিভিন্ন মূল্যবান জিনিসপত্র চুরির অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার রাতে সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে আটক করে স্থানীয়রা ইউপি সদস্যের কাছে নিয়ে যান।
মারধরের বিষয়ে ইউপি সদস্য জয়নাল আহমদ রোববার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ চোরচক্র সক্রিয় রয়েছে। বারবার থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরও কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ায় স্থানীয় মুরব্বিদের উপস্থিতিতে অভিযুক্তদের ডেকে সতর্ক করা হয়েছে। তার দাবি, চোরচক্রের সদস্যরা শুধু চুরিই নয়, মাদক ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত।
তবে ফেসবুক লাইভে মারধরের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, উদ্দেশ্য ছিল অভিযুক্তদের অপরাধের পথ থেকে ফিরিয়ে আনা। কেউ স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চাইলে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতেও সহযোগিতা করা হবে।
মারধরের ভিডিওটি নজরে এসেছে জানিয়ে ফেঞ্চুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জাফর মাহফুজুল করিম বলেন, আমি এ ব্যাপারে ইউএনও মহোদয়ের সাথে কথা বলেছি। তাকে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেছি। এছাড়া কেউ লিখিত অভিযোগ করলে পুলিশও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
ফেঞ্চুগঞ্জ ইউএনও আজিজুন্নাহার বলেন, এরকম একটি ভিডিওর কথা আমি শুনেছি। তবে ভিডিওটি এখনও আমি দেখিনি। খোঁজখবর নিয়ে ঘটনার সত্যতা পেলে ওই ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে আইনত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।