নিজস্ব প্রতিবেদক: হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে প্রতিবেশীদের সাথে বিরোধের জেরে জীবন মিয়া হত্যা মামলার ৯ জন আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৯)। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) আনুমানিক সকাল ৭টার দিকে হবিগঞ্জ জেলার সদর থানাধীন সুলতান মাহমুদপুর এলাকায় এবং সকাল সোয়া ৮টার দিকে লোকড়াবাজার এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন, হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং থানার আনোয়ারপুর এলাকার মৃত রাজধর মিয়ার ছেলে কাজল মিয়া (৫০), মৃত ভাসানি মিয়ার ছেলে আবুল মিয়া (৫৫) ও আওয়াল মিয়া (৪০), মৃত জয়দর মিয়ার ছেলে মকসুদ আলী (৪৫), আশ্বব আলী (৪০) ও নজরুল মিয়া (৩৫), পৈলারকান্দি এলাকার চানফর মিয়ার ছেলে মোফাজ্জল মিয়া (২৫), গাজীপুর এলাকার মৃত নুরুল হকের ছেলে মোফাজ্জল মিয়া উরফে রাজা মিয়া (৩২) এবং চয়ন মিয়া (১৮)।
ঘটনার বিবরণ উল্লেখ করে র্যাব জানায়, নিহত জীবন মিয়া বানিয়াচং থানার গাজীপুর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। আসামিদের সঙ্গে তার পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ধানের খলা ব্যবহারের বিষয়কে কেন্দ্র করে বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করে। গত ১৪ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ দুপুর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে জীবন মিয়ার পরিবারের সদস্যরা ধানের খলা ব্যবহার করতে গেলে আসামিরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে পরিবারের কয়েকজন গুরুতর আহত হন। ঘটনার পর স্থানীয় চেয়ারম্যান ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সালিশের উদ্যোগ নিলেও অভিযুক্তরা তা প্রত্যাখ্যান করে।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগী পরিবার আদালতে মামলা করতে গেলে আদালত বিষয়টি নিয়মিত মামলা হিসেবে রুজু করার জন্য বানিয়াচং থানাকে নির্দেশ দেন। এ সংবাদ জানার পর গত ২১ মে ২০২৬ তারিখ সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে আসামিরা দা, রামদা, ফিকল, টেটা, লোহার রড ও বাঁশের লাঠিসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জীবন মিয়ার বাড়ির পাশে গিয়ে তার পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। গালিগালাজের শব্দ শুনে জীবন মিয়া ঘটনাস্থলে গেলে ৫ নম্বর আসামি আবুল মিয়ার নির্দেশে অন্য আসামিরা তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। তার চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
পরে গুরুতর আহত অবস্থায় জীবন মিয়াকে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১ জুন ২০২৬ তারিখে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় নিহতের পিতা বাদী হয়ে বানিয়াচং থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি রুজুর পর আসামিদের গ্রেপ্তারে র্যাব-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে।
এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯, সিপিসি-৩, শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্প, হবিগঞ্জের একটি আভিযানিক দল পৃথক দুটি অভিযানে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) আনুমানিক সকাল ৭টার দিকে হবিগঞ্জ জেলার সদর থানাধীন সুলতান মাহমুদপুর এলাকায় এবং সকাল সোয়া ৮টার দিকে লোকড়াবাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং থানার মামলা নং- ০৭, তারিখ- ০৫/০৬/২০২৬ খ্রি., ধারা-১৪৩/১৪৭/১৪৮/৩২৩ /৩২৪/৩২৬/৩০২/৩০৭/১১৪/৩৪ পেনাল কোড ১৮৬০; এর হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে প্রতিবেশীদের সাথে বিরোধের জেরে জীবন মিয়া হত্যা মামলার এজাহারনামীয় ০৩, ০৫, ০৬, ০৮, ১০, ১১, ১৯, ২৪, ২৬নং পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৯) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া ) কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, ‘পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে গ্রেফতারকৃত আসামিদের হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ছাড়াও দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র্যাব-৯ এর চলমান গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’