স্টাফ রিপোর্টার : ঢাকায় মাত্র ১৩ বছর বয়সেই সাত মাস বয়সী এক শিশুসন্তানের মা হয়েছেন অনামিকা আক্তার জুঁই। নিজের শিশুসন্তানকে ফিরে পেতে আদালতের দ্বারস্থ হওয়া এই কিশোরীকে ঘিরে রাজধানীতে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি বাল্যবিবাহ, অপ্রাপ্তবয়স্ক মাতৃত্ব এবং শিশুর অধিকার সুরক্ষার বিষয়টিকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পরিচয়ের মাধ্যমে ১১ বছর বয়সী জুঁইয়ের সঙ্গে ২০ বছর বয়সী শাকিল ওরফে শাকিব মিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের সংসারে একটি পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। বর্তমানে শিশুটির বয়স সাত মাস।
জুঁইয়ের অভিযোগ, সন্তান জন্মের কিছুদিন পর স্বামী ও শাশুড়ি তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। একই সঙ্গে তার শিশুসন্তানকে নিজেদের কাছে রেখে দেন। বারবার চেষ্টা করেও সন্তানকে ফিরে না পেয়ে শেষ পর্যন্ত তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন।
আবেদনের শুনানির দিন বিবাদীপক্ষ আদালতে উপস্থিত না থাকায় ঢাকার বিচারিক আদালতের বিচারক সায়েম খান শিশুটিকে উদ্ধার করে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশনার পর চকবাজার থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে।
পরদিন শিশুটিকে আদালতে হাজির করা হলে জুঁইও আদালতে উপস্থিত হন। শুনানির সময় সাত মাস বয়সী শিশুটি মায়ের কোলে ছিল। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেন।
আইনজীবীদের মতে, এ ঘটনায় শিশুর হেফাজত, বাল্যবিবাহ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীর অধিকার সবগুলো বিষয়ই আইনি বিবেচনার আওতায় আসবে। আদালত সংশ্লিষ্ট আইন ও প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন।
এদিকে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর শিশু অধিকার ও নারী অধিকার নিয়ে কাজ করা সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাল্যবিবাহ শুধু আইনের লঙ্ঘন নয়, এটি কিশোরীর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং স্বাভাবিক বিকাশের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে। একই সঙ্গে এতে নবজাতক ও শিশুর স্বাস্থ্য এবং নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়ে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে বিদ্যমান আইনের কঠোর প্রয়োগের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধি, শিক্ষা বিস্তার এবং কিশোরীদের সুরক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।