এ কে আজাদ: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার সদর ইউনিয়নের কালিজুরী গ্রামে জমি দখলের চেষ্টা, হামলা, মারধর, প্রাণনাশের হুমকি এবং জমির সীমানার আইল নষ্ট করার অভিযোগে ৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী হোসেইন আহমদ (৬২)। গোয়াইনঘাট আমলি আদালতে দায়ের করা সি.আর. মামলা নং-১৭৪/২০২৬-এ এসব অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার অভিযুক্তরা হলেন— নুর আহমদ বকুল (৫৫), খোকন আহমদ (৩৮), ফারুক আহমদ সেরগুল (৫২), সালেহ আহমদ (৪০), সেলিম আহমদ (৪৫), ফখরুল ইসলাম (৩৭) এবং আব্দুল মান্নান (৩৫)। তাদের সবার বাড়ি উপজেলার কালিজুরী গ্রামে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৫ জুলাই ২০২৬ সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে কালিজুরী মৌজার বি.এস. ২৮৩, ২৮৬, ২৮৭, ২৮৮ ও ২৯৭ দাগভুক্ত প্রায় ১ দশমিক ১১ একর জমিতে সংঘবদ্ধভাবে প্রবেশ করেন অভিযুক্তরা। এ সময় তারা জমির মালিকানা দাবি করে বাদীপক্ষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, মারধর, জমির সীমানা চিহ্ন নষ্ট এবং জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা করেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এজাহারে আরও বলা হয়, বাধা দিতে গেলে অভিযুক্তরা বাদী ও তার স্বজনদের ওপর হামলা চালায় এবং কোদাল, দা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এতে জমির সীমানার আইল নষ্ট হয়ে অন্তত ১০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
রোববার (২ আগস্ট) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মামলায় উল্লেখিত জমির পাশাপাশি আশপাশের আরও অন্তত ২৫ বিঘা চাষযোগ্য কৃষিজমি দীর্ঘদিন ধরে পতিত পড়ে রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের কারণেই এসব জমিতে চাষাবাদ বন্ধ রয়েছে। ফলে একদিকে যেমন জমির মালিক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন, অন্যদিকে বর্গাচাষি ও কৃষিশ্রমিকদের জীবিকাও হুমকির মুখে পড়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বর্গাচাষি বলেন, “আমিসহ আরও কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরে চেয়ারম্যান হোসেইন সাহেবের জমি চাষ করে আসছি। হঠাৎ জমি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হওয়ায় আমরা আর জমিতে নামতে পারছি না। এ বছর আবাদ করতে না পারলে পরিবার নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়তে হবে।
বাদী হোসেইন আহমদ বলেন, প্রথমে প্রায় দুই থেকে আড়াই বিঘা জমি নিয়ে বিরোধ শুরু হয়। প্রায় এক বছর গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা করেও সফল হইনি। পরে আদালতে মামলা করার পর বিবাদীরা আমার দীর্ঘদিনের ভোগদখলে থাকা প্রায় ২৪ থেকে ২৫ বিঘা জমির ওপরও আপত্তি তোলে। আশপাশের সব জমিতে চাষাবাদ হলেও শুধু আমার জমিগুলো পতিত পড়ে আছে। ক্ষেতমজুররা ট্রাক্টর কিংবা হাল নিয়ে জমিতে নামতে গেলেও তাদের লাঠিসোঁটা নিয়ে বাধা দেওয়া হয়। এতে আমি ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি। পাশাপাশি যারা আমার জমি চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন, তাদের রুটিরুজিও বন্ধ হয়ে গেছে। মামলাটি দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৭, ৩২৩, ৪২৭ ও ৫০৬(২) ধারার পাশাপাশি ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩-এর ৪(ক), ১০ ও ১৬ ধারায় দায়ের করা হয়েছে।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গোয়াইনঘাট থানার এসআই ফাত্তাহ বলেন, “মামলার পরবর্তী আদালতের তারিখ এখনো প্রায় এক মাস পর। উভয় পক্ষের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে আদালতে প্রকৃত তথ্য উপস্থাপন করা হবে। এছাড়া মামলার বাইরে কোথাও বিবাদীরা বাধা দিলে বাদী থানায় লিখিত অভিযোগ করলে দায়িত্বপ্রাপ্ত বিট অফিসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
অন্যদিকে, মামলার অন্যতম বিবাদী নুর আহমদ বকুল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বাদী আমার চাচাতো ভাই। জমির মালিকানা নিয়ে আমাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। আমরা রেকর্ড সংশোধনের জন্য আদালতে মামলা করেছি এবং বিষয়টি বিচারাধীন। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যার অধিকার প্রমাণিত হবে, তিনিই জমির দখল পাবেন। বর্তমানে গ্রামের মুরব্বিয়ানরা জায়গাটি জব্দ করে রেখেছেন। হামলা, প্রাণনাশের হুমকি ও জোরপূর্বক বাধা দেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়।