সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, ফ্যাসিস্ট শাসনের দমন-পীড়ন, গুম, হত্যা ও গুলির মুখেও গণতন্ত্রকামী মানুষ আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়াননি। এম. ইলিয়াস আলীসহ অন্তত ৬৬৬ জন গুমের শিকার হয়েছেন। অসংখ্য নেতাকর্মী শহীদ ও আহত হয়েছেন। সেই দীর্ঘ আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থান চূড়ান্ত রূপ লাভ করে। জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মুখে ফ্যাসিস্ট শাসনের পতন ঘটে এবং দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।
বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে সিলেট প্রেসক্লাবে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সিসিক প্রশাসক বলেন, জুলাই-আগস্টের আন্দোলন শুধু দুই মাসের কোনো আন্দোলন নয়; এটি দীর্ঘ ১৭ বছরের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ফসল। আর এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, “বীর শহীদরা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে অপশাসনের অবসান ঘটিয়েছেন। তাঁদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ গণতন্ত্র ফিরে পেয়েছে। জাতি তাঁদের অবদান চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।”
সভাপতির বক্তব্যে সিলেট প্রেসক্লাব সভাপতি মুকতাবিস-উন্ নূর বলেন, “৫ আগস্ট বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় দিন। এ দিন দেশের মানুষ ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে মুক্তি লাভ করেছে। জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতার পাশাপাশি নারী ও শিশুরাও সাহসিকতার সঙ্গে রাজপথে নেমে এসেছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের মানুষ প্রকৃত অর্থেই মুক্তির স্বাদ পেয়েছে।”
প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ইকবাল সিদ্দিকী ও ইকরামুল কবির, সিনিয়র সহসভাপতি এম এ হান্নান, দৈনিক সিলেটের ডাক-এর প্রধান বার্তা সম্পাদক এনামুল হক জুবের, দৈনিক নয়া দিগন্ত-এর সিলেট ব্যুরো প্রধান আবদুল কাদের তাপাদার, প্রেসক্লাবের সহসভাপতি মো. ফয়ছল আলম, সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক শুয়াইবুল ইসলাম, সাবেক ক্রীড়া ও সংস্কৃতি সম্পাদক নূর আহমদ ও ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হুমায়ুন কবির লিটন।
আলোচনা সভায় প্রেসক্লাবের নির্বাহী সদস্য মুহাম্মদ আমজাদ হোসাইন, সহ-সাধারণ সম্পাদক খালেদ আহমদ, পাঠাগার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. মুহিবুর রহমান, নির্বাহী সদস্য আনাস হাবিব কলিন্স, সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, মো. আমিরুল ইসলাম চৌধুরী এহিয়া, সেলিম আউয়াল, সিন্টু রঞ্জন চন্দ, শেখ আব্দুল মজিদ, একে কাওছার, লবীব আহমদ, মো. তাজুল ইসলাম, আব্দুল হান্নান, লোকমান আহমদ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের পাবলিক রিলেশন্স অফিসার নেহার রঞ্জন পুরকায়স্থ ও প্রশাসকের পিএস মাহবুবুর রহমানও উপস্থিত ছিলেন। পরে ক্লাবের সিনিয়র সদস্য মো. আব্দুর রাজ্জাকের পরিচালনায় এক মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।