মোঃ ফারুক, স্টাফ রিপোর্টার:: সুনামগঞ্জের শাল্লায় এক ভয়াবহ বৈপরীত্যের মুখে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। একদিকে তীব্র নদীভাঙনে ভিটেমাটি ও গ্রাম বিলীন হওয়ার আতঙ্ক, অন্যদিকে চোখের সামনেই একই নদী থেকে চলছে অনিয়ন্ত্রিত বালু উত্তোলন। নদীভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ও স্থায়ী পদক্ষেপ না নিয়ে উল্টো নদী থেকে বালু তোলায় চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
শনিবার (৮ আগস্ট) সরেজমিনে শাল্লার ফয়জুল্লাহপুর, বিষ্ণুপুর, প্রতাপপুর বাজার ও শাল্লাগ্রাম এলাকা ঘুরে দেখা যায় নদীভাঙনের এক করুণ চিত্র। এসব অঞ্চলের বিস্তীর্ণ জনপদ এখন বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক দৃশ্য দেখা যায় প্রতাপপুর বাজার সংলগ্ন নদীতে—সেখানে একাধিক বড় স্টিল বোটে জোরকদমে চলছে বালু উত্তোলনের কাজ।
উত্তোলনরত বালুবাহী নৌকার শ্রমিকদের কাছে জানতে চাইলে তারা দাবি করেন, এই বালু উজান থেকে আনা হয়েছে। সরবরাহের পেছনে নোয়াগাঁও অঞ্চলের সোহেল মিয়ার গং উল্লেখ করে তারা জানান, এসব বালু মূলত পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কাজের জন্য আনা হয়েছে। তবে দাবিকৃত বালুর উৎস ও কাজের বৈধতা নিয়ে পাউবোর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওবায়দুল হকের সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বিষয়টি নিয়ে শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পিয়াস চন্দ্র দাস জানান, অভিযোগটি অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, “আমি এখনই পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্ব শীলদের সাথে কথা বলছি। বালু কোথা থেকে আনা হচ্ছে এবং অবৈধভাবে নদী থেকে উত্তোলন করা হয়ে থাকলে তা কেন করা হচ্ছে—পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।” স্থানীয় অধিবাসীদের ক্ষোভ এখন চরমে। নদীভাঙনে ইতোমধ্যে যাদের ভিটেমাটি ও ফসলি জমি বিলীন হয়েছে, তারা জানান—নতুন করে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে অবশিষ্ট গ্রামগুলো রক্ষা করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।,,
এলাকাবাসীর অভিযোগ, পাউবো ভাঙন রোধে যে সাময়িক ও অপরিকল্পিত কাজ করছে, তা বাস্তবে কোনো কাজেই আসছে না। নামমাত্র কাজের মাধ্যমে সরকারের কোটি কোটি টাকা অপচয় হচ্ছে, আর আড়ালে তৈরি হচ্ছে দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকি। অবিলম্বে নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, টেকসই প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ এবং পাউবোর চলমান প্রকল্পের কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের দ্রুত ও কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তারা।