কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি: সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম ইসলামপুর ইউনিয়নের ডাকঘর এলাকায় ধলাই সেতুর নিচ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও মজুত করে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আকরম ও মকবুল মিয়ার নেতৃত্বে বারকি নৌকায় করে ধলাই নদী থেকে বালু উত্তোলন করে ডাকঘর গ্রামের দক্ষিণ পাশে নদীর তীরে মজুত করা হচ্ছে। পরে ট্রাক্টরের মাধ্যমে এসব বালু বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের দাবি, দিন-রাত অবাধে বালু উত্তোলনের কারণে ধলাই সেতুর ভিত্তি ও আশপাশের নদীতীর ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। এভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, সেতুর নিচ থেকে বালু উত্তোলনে বাধা দিলে আকরম ও মকবুল মিয়া তাদের হুমকি-ধমকি দেন। বালু উত্তোলনে বাধা দেওয়া কিংবা বিষয়টি পুলিশকে জানালে পরিণতি ভালো হবে না বলেও ভয় দেখানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা ও অভিযান উপেক্ষা করে একটি চক্র ধলাই নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে আকরম ও মকবুল মিয়ার বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য করেননি।
এদিকে সরেজমিনে বালু উত্তোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে কয়েকজন শ্রমিক প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমাদের লাইনের টাকা দেওয়া আছে, আপনারা তাদের কাছে যান।’ ‘তারা কারা’ জানতে চাইলে তারা দ্রুত সেখান থেকে চলে যান বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, আকরম প্রতিবেদককে তার ‘সাইটে’ গিয়ে কথা বলতে বলেন এবং ‘কলের লাইন কেটে দেওয়ার’ বিষয়ে হুমকিসূচক বক্তব্য দেন। অপরদিকে মকবুল মিয়াও তার সাইটে আছে বলে সিকার করে বলেন বলে অভিযোগ।
অন্যদিকে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলাশ তালুকদার জানান, অভিযানে চারটি বালুবাহী নৌকা ধ্বংস করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় সাড়ে ১২ হাজার ঘনফুট বালু জব্দ করে ঘটনাস্থলে প্রকাশ্য নিলাম দেওয়া হয়েছে। ১ লক্ষ্য ৮৭ হাজার টাকা বিক্রি করা হয় নিলামে যারা বালু পেয়েছেন, তারা টাকা জমা দেওয়ার পর এক দিনের মধ্যে তা সরিয়ে নিতে হবে। এরপর ওই স্থান থেকে আর বালু উত্তোলন করতে দেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের তালিকা তৈরি করতে পুলিশকে বলা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি অভিযানে স্থানীয়দের সহযোগিতা প্রয়োজন। কোথাও নৌকা বা বালু উত্তোলনকারীদের পাওয়া গেলে প্রশাসনকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি। স্থানীয়রা ধলাই সেতু ও নদীর পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের আরও কঠোর ও নিয়মিত অভিযান দাবি করেছেন।