মনোয়ার পারভেজ, কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি: সিলেটের বিমানবন্দর বাইপাস থেকে সালুটিকর, কোম্পানীগঞ্জ হয়ে ভোলাগঞ্জ পর্যন্ত নির্মিত জাতীয় মহাসড়কের ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে নির্মিত ড্রেন মাটি ও ময়লায় ভরাট হয়ে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। কোথাও কোথাও ড্রেনে পানি প্রবেশের প্রয়োজনীয় ইনলেট না থাকায় বৃষ্টির পানি সড়কেই জমে থাকছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক স্থানে ড্রেনের ভেতরে মাটি জমে পানি চলাচলের পথ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশিত না হয়ে মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। এতে যানবাহন চলাচলে দুর্ভোগের পাশাপাশি দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় সড়কের স্থায়িত্ব নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিমানবন্দর বাইপাস-লালবাগ-সালুটিকর-কোম্পানীগঞ্জ-ভোলাগঞ্জ সড়কটি কোম্পানীগঞ্জ ও ভোলাগঞ্জ এলাকার যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। পাশাপাশি ভোলাগঞ্জ-সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্রে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক পর্যটক ও পর্যটকবাহী যানবাহন এই সড়ক ব্যবহার করে। ভারী পণ্যবাহী ট্রাক, বাস, মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন যানবাহনের চাপও রয়েছে সড়কটিতে। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সড়কটি জাতীয় মহাসড়কে উন্নীতকরণ প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ৬২১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। প্রকল্পের আওতায় ৩০ দশমিক ৮৫ কিলোমিটার রিজিড পেভমেন্টের পাশাপাশি সেতু, কালভার্ট, বাস-বে, এক্সেল লোড কন্ট্রোল স্টেশন ও টোল প্লাজাসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে।
বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কের ড্রেনেজ ব্যবস্থা যদি মাটি জমে অকার্যকর হয়ে পড়ে এবং কোথাও পানি প্রবেশের প্রয়োজনীয় ইনলেট না থাকে, তাহলে এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। জলাবদ্ধতার বিষয়ে জানতে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ˆদনিক সোনালী সিলেটকে বলেন এই রাস্তায় কাজ চলছে, নতুন করে ড্রেন নির্মান চলছে| অর্থাৎ ড্রেনেজ ব্যবস্থার সমস্যাগুলো সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে বলে জানিয়েছেন তিনি|
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, মহাসড়ক নির্মাণের সময় পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা যথাযথভাবে নিশ্চিত করা হয়েছিল কি না। একই সঙ্গে ড্রেনের ভেতরে জমে থাকা মাটি ও ময়লা অপসারণ এবং প্রয়োজনীয় ইনলেট ও সংযোগ স্থাপনে কত সময় লাগবে—তা নিয়েও তারা দ্রুত পদক্ষেপ দাবি করছেন। সড়ক ব্যবহারকারী ও স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত ড্রেনেজ ব্যবস্থার ত্রুটি চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ইনলেট ও সংযোগ স্থাপন, ড্রেন পরিষ্কার এবং পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা করতে হবে। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আগেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন তারা।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা কার্যকর করা না হলে জলাবদ্ধতা বাড়ার পাশাপাশি সড়কের স্থায়িত্বও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে জনদুর্ভোগের পাশাপাশি ভোলাগঞ্জ-সাদাপাথরগামী পর্যটক ও পণ্যবাহী যানবাহন চলাচলেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।