বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি: সিলেটের বিয়ানীবাজারে সোনাই নদীতে ২৮ আগস্ট অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা বন্ধের দাবি জানিয়েছে ‘তৌহিদি জনতা’। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নৌকাবাইচের পক্ষে-বিপক্ষে চলছে নানা প্রচার ও বক্তব্য। এতে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে উপজেলা প্রশাসন বলছে, নৌকাবাইচ একটি ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান। তবে এটি আয়োজনের জন্য আয়োজকেরা প্রশাসনের কাছে কোনো লিখিত অনুমতি চাননি। আয়োজনের ক্ষেত্রে কোনো বাধা বা সমস্যার সম্মুখীন হওয়ার বিষয়টিও তারা প্রশাসনকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাননি।
জানা গেছে, উপজেলার লাউতা ইউনিয়নের লাউতা ও বাহাদুরপুর গ্রামের যুব সমাজ দীর্ঘদিন ধরে সোনাই নদীতে নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে আসছে। অতীতে এ আয়োজন নিয়ে কোনো বাধার মুখে পড়তে হয়নি আয়োজকদের। প্রতিবছর শত শত মানুষ নদীর দুই পাড়ে জড়ো হয়ে ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিযোগিতা উপভোগ করেন।
তবে এবার ‘তৌহিদি জনতা লাউতা ইউনিয়ন’-এর ব্যানারে একটি পক্ষ নৌকাবাইচ বন্ধের দাবি তুলেছে। গত বৃহস্পতিবার বারিগ্রাম বাজার মসজিদে সংগঠনটির উদ্যোগে সভা করে প্রতিযোগিতাটি বাতিলের দাবি জানানো হয়। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নৌকাবাইচের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পোস্ট দেওয়া হচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে লাউতা ইউনিয়নের গাংপাড় এলাকার এক ব্যবসায়ী বলেন, স্থানীয় যুবকরা দীর্ঘদিন ধরে সোনাই নদীতে নৌকাবাইচ আয়োজন করে আসছেন। কিন্তু কয়েক দিন ধরে স্থানীয় যুবক জুয়েল, অপুসহ কয়েকজন ফেসবুকে নৌকাবাইচের বিরুদ্ধে লেখালেখি করছেন। এতে পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সোহেল মিয়া নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, নৌকাবাইচ এ এলাকার মানুষের আনন্দের অন্যতম উৎস। প্রতিবছর শত শত মানুষ এ প্রতিযোগিতা দেখতে আসেন। কিন্তু এবার তৌহিদী জনতার ব্যানারে নৌকাবাইচ বন্ধের দাবি ও হুমকির ঘটনায় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টির সমাধানের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন লাউতা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান গউস উদ্দিন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জাফর মোহাম্মদ মাহফুজুল করিম বলেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী যেকোনো অনুষ্ঠান আয়োজনের আগে জেলা প্রশাসকের অনুমতি বা অনাপত্তি নেওয়া বাধ্যতামূলক। স্থানীয় কিছু পক্ষ থেকে নৌকাবাইচ বন্ধের দাবি উঠেছে। তবে এ বিষয়ে এখনই কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করা যাচ্ছে না। পুরো বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর ও প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত ও বিস্তারিত জানানো হবে।
বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিবা মজুমদার বলেন, নৌকাবাইচ একটি ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান। তবে এটি আয়োজনের জন্য আয়োজকেরা উপজেলা প্রশাসনের কাছে অনুমতি নেওয়া প্রয়োজন। এমনকি আয়োজনের ক্ষেত্রে কোনো বাধার সম্মুখীন হলে সেটি প্রশাসনকে জানানো প্রয়োজন।
তিনি বলেন, নৌকাবাইচ বন্ধে তৌহিদী জনতার দাবির বিষয়েও আয়োজকেরা প্রশাসনের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেননি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন কথা শোনা গেলেও সেটি দাপ্তরিক মাধ্যম নয়। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে থানা পুলিশ ও মাঠপর্যায়ের সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।