নিজস্ব প্রতিবেদক: সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশিদের একটি গবেষণাপত্র আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক জার্নাল থেকে প্রত্যাহার (রিট্র্যাক্ট) করা হয়েছে। গবেষণাপত্র প্রত্যাহারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গবেষণার নৈতিকতা, peer-review প্রক্রিয়া এবং citation ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
গবেষণা প্রকাশনার ক্ষেত্রে reference ও citation ব্যবস্থাপনা একটি গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক বিষয়। কোনো গবেষণাপত্রে গবেষণার বিষয়বস্তুর সঙ্গে অসংগত বা অপ্রাসঙ্গিক reference যুক্ত করা হলে এবং peer-review প্রক্রিয়ার সময় নির্দিষ্ট ব্যক্তির গবেষণাপত্র অপ্রয়োজনীয়ভাবে উদ্ধৃত করার চাপ সৃষ্টি হলে তা publication ethics-এর দৃষ্টিতে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গবেষণায় অনিচ্ছাকৃত ভুল হতে পারে তবে ইচ্ছাকৃতভাবে অন্যের গবেষণা বা তথ্য চুরি, জালিয়াতি কিংবা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ গুরুতর
গবেষণা অনৈতিকতা।
সম্প্রতি Elsevier-এর প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান Heliyon-এর একটি গবেষণাপত্রও এ ধরনের publication-integrity concern-এর কারণে প্রত্যাহার করা হয়েছে যার অথর ছিলেন ড. হারুন-অর-রশিদ। সংশ্লিষ্ট retraction notice-এ বলা হয়েছে, তদন্তে article-এ কিছু irrelevant reference পাওয়া যায়। authors-কে ওই reference ব্যবহারের কারণ ব্যাখ্যা করতে বলা হলেও journal-এর মতে তা সন্তোষজনক ছিল না।
একই তদন্তে আরও উঠে আসে যে দুই reviewer peer-review চলাকালে authors-কে তাঁদের নিজেদের paper-এর redundant references যুক্ত করতে বলেছিলেন। এসব
বিষয় বিবেচনায় editor article-এর integrity ও findings-এর ওপর confidence হারানোর কথা উল্লেখ করে paperটি retract করেন। এ ধরনের কাজের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত—এখন সেই প্রশ্নই সামনে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সুবিপ্রবি) প্রো-ভাইস চ্যান্সেলরের
সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “ঘটনা সত্য হলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)-এর একটি সভায় রয়েছেন। এ কারণে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করতে পারেননি। তবে গবেষণার নৈতিকতা ও একাডেমিক সততা নিশ্চিত করতে অভিযোগটি যথাযথভাবে তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই এবং প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এমন প্রত্যাশাই সংশ্লিষ্ট মহলের।
তথ্যসূত্র
১. বাংলাদেশ প্রতিদিন — “অনিয়মের অভিযোগে পাবিপ্রবির পাঁচ শিক্ষকের গবেষণাপত্র প্রত্যাহার”, ২০ আগস্ট ২০২৬।
২. The Daily Campus — পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের গবেষণাপত্র প্রত্যাহার সংক্রান্ত
প্রতিবেদন, আগস্ট ২০২৬।
৩. CZN24 — বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের গবেষণাপত্র প্রত্যাহার ও গবেষণা-অনিয়ম সংক্রান্ত প্রতিবেদন।
৪. Elsevier/Heliyon — সংশ্লিষ্ট গবেষণাপত্রের official retraction notice; publication integrity ও reviewer-
requested redundant references সংক্রান্ত ব্যাখ্যা।