স্টাফ রিপোর্টার: সুনামগঞ্জের রঙ্গারচরে বাজারের দোকান ঘর বিক্রি করে স্ট্যাম্পের মাধ্যমে বাজার সেক্রেটারীসহ অন্যান্য ব্যবসায়ীর সম্মুখে টাকা নিয়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে ক্রেতাকে হয়রানীর অভিযোগ। ঘটনাটি ঘটে ইউনিয়নের রংপুর নতুন বাজারে। অভিযোগ ও স্থানীয় সুত্র জানায়, চাচা মনু মিয়ার কাছ থেকে বাজারের একটি দোকান কোটা ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকায় ভাতিজা সাদ্দাম হোসেনের কাছে দরদাম সাব্যস্ত করে বাজার কমিটির সম্মুখে নগদ ২ লাখ ২৪ হাজার নিয়ে স্ট্যাম্পে বায়নাপত্র সম্পন্ন করে দেন। ভাতিজা সাদ্দাম হোসেন ধার দেনা ও গরু বাচুর বিক্রি করে অবশিষ্ট ২ লাখ টাকা জমা করে বায়নাকৃত দোকান কোঠা রেজিষ্টি না দিয়ে প্রায় ৫ লাখ টাকার মালামাল রাতের আধারে তালা ভেঙে চুরি করে নিয়ে যায়। এ নিয়ে বাজারের ব্যবসায়ীদের অবগত করা হলে তারা আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেন। আদালতে মামলা দায়ের করা হলে চাচার বিরুদ্ধে সমন জারি করে আদালত। এদিকে মনু মিয়ার স্ত্রী রাবেয়া খাতুন জোরপুর্বক তার স্বামী মনু মিয়ার স্বাক্ষর নেয়ার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্যে পিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছেন।
বাজার কমিটির সেক্রেটারীসহ স্থানীয়রা বলেন, চাচা মনু মিয়া বাজার কমিটির সদস্যসহ আশপাশের এলাকার অনেক মানুষের সম্মুখে নগদ ২লাখ ২৪ হাজার টাকা গ্রহন করে ১০০ টাকা মুল্যের ননজুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে লিখিত বায়নাপত্র সম্পাদন করেন এবং বকেয়া টাকা ২০ দিন পর রেজিষ্ট্রি করার সময় পরিশোধ করার সিদ্ধান্ত হয়। চাচা মনু মিয়া টাকা নিয়ে পাশ্বর্বতী একজনের কাছ থেকে ৫শতক জায়গাও কিনেন রেজিষ্ট্রির মাধ্যমে কিন্তু কয়েকদিন পর চাচা মনু মিয়া বাজার কমিটির সেক্রেটারীর কাছে গিয়ে জানান, দোকান কোটা বিক্রি করবেন না এবং ভাতিজার টাকা ফেরত দিয়ে দিবেন। এ সময় চাচা ভাতিজার মধ্যে কথা কাটাকাটি হয় এবং চাচা হুমকি দিয়ে বলেন,তুই কিভাবে শান্তিতে ব্যবসা করিস তা দেখে নিব। দুই তিন দিন পর হঠাৎ সাদ্দামের বায়নাকৃত দোকান কোঠার তালা ভাঙ্গা ও মালামাল বারিন্দা ও রাস্তায় পড়ে আছে দেখতে পেয়ে সাদ্দামকে খবর দিলে সাদ্দাম বাজারে উপস্থিত হয়ে সবাইকে বিষয়টি অবহিত করেন এবং বাজারের ব্যবসায়ীরা চাচা মনু মিযাকে খবর দেয়া হলে তিনি ঘটনাস্থলে আসেন নাই। এমতাবস্থায় বাজারের ব্যবসাযীরা সাদ্দামকে আইনের আশ্রয় নেযার পরামর্শ করেন। সাদ্দাম সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় গিয়ে অবগত করেন এবং জিডি দায়েরের পরামর্শ দেন অফিসার ইনচার্জ এবং তৎক্ষনাৎ থানার এসআই অভিজিত ভৌমিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ঘটনার সত্যতা পেয়ে আদালতে মামলা দাযেরের পরামর্শ দেন। সাদ্দাম হোসেন আদালতে চুরির ঘটনায় মামলা দাযের করলে আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আসামীদের বিরুদ্ধে সমন ইস্যু করেন। খবর পেয়ে মনু মিযার স্ত্রী রাবেয়া বেগম তার স্বামীর কাছ থেকে জোরপুর্বক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয়ার অভিযোগ তুলে সাদ্দাম ও তার বৃদ্ধ পিতাকে আসামী করে আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগটি আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ প্রদান করেন। বর্তমানে চাচীর অভিযোগটি তদান্তাধীন রয়েছে।
পিবিআইয়ের পুলিশ পরিদর্শক নাজমুল ইসলাম তদন্তভার পেয়েছেন। এ দিকে চাচী রাবেয়া খাতুনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার স্বামীর কাছ থেকে দোকান না কিনতে অনুরোধ করেছিলাম কিন্তু সাদ্দাম হোসেন না শুণে দোকান কোটা কিনার কারনে মামলা দিয়েছি। এ ব্যাপারে নাজমুল ইসলাম জানান, উভয় পক্ষের বক্তব্য ও আশপাশের মানুষের মতামতের ভিত্তিতে যা পাওয়া যাবে তার প্রেক্ষিতে আদালতে প্রতিবেদন দেয়া হবে।