মনোয়ার পারভেজ, কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি: সিলেটের পর্যটন ও বাণিজ্যিক নগরী ভোলাগঞ্জের সাথে মূল শহরের যোগাযোগের চিত্র পাল্টে দিয়েছে ‘সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ-ভোলাগঞ্জ মহাসড়ক’। স্থলবন্দর ও পাথর কোয়ারির পণ্য পরিবহন সহজ করতে ২০১৫-১৬ সালে মহাসড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং হাজার হাজার শতবর্ষী ও ছায়াদার গাছ কেটে ফেলা হয়। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিপ্লব আসলেও, তার বিনিময়ে পরিবেশ যে অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়েছে—তার ভুক্তভোগী এখন স্থানীয় বাসিন্দারা।
মহাসড়ক তৈরির আগে এই অঞ্চলে সারি সারি গাছপালার সবুজ বেষ্টনী ছিল, যা এলাকার তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা রাখত। কিন্তু সড়ক চওড়া করার সময় নির্বিচারে গাছ কাটা হলেও পরবর্তীতে কোনো পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়নি। ফলে এক সময়ের শীতল ও সবুজ ভোলাগঞ্জ এখন খরতাপে পুড়ছে। স্থানীয় অধিবাসীদের তীব্র অভিযোগ—অতীতে এখানে গ্রীষ্মকালেও যে সহনীয় আবহাওয়া ছিল, গাছ কাটার পর বর্তমানে তা অসহনীয় তাপদাহে রূপ নিয়েছে।
পরিবেশবিদদের মতে, সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নের সাথে সাথে বাধ্যতামূলকভাবে পরিপূরক বৃক্ষরোপণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা উচিত ছিল। বৃক্ষশূন্য পিচঢালা সড়ক তাপ শোষণ করে আশেপাশের পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে তুলছে, যা স্থানীয় পরিবেশগত ভারসাম্যের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। টেকসই সমাধানে দ্রুত বৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তা:
পরিবেশগত এই দুর্যোগ কাটাতে এবং ভোলাগঞ্জের স্বাভাবিক আবহাওয়া ফিরিয়ে আনতে দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন:
সড়কের দুই পাশে পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ: সড়ক ও জনপথ বিভাগের উদ্যোগে দ্রুত মহাসড়কের দুই ধারে স্থান উপযোগী ছোট ও দুর্বল চারা নয়, বড় জাতের, সুস্থ ও শক্তিশালী চারা রোপণ করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি চারার চারপাশে শক্ত সুরক্ষাবেষ্টনী দিতে হবে, যাতে গবাদিপশু চারাগুলো খেয়ে বা নষ্ট করে ফেলতে না পারে।
স্থানীয় সামাজিক বনায়ন: স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে যুক্ত করে বৃক্ষরোপণ ও তা রক্ষণাবেক্ষণের স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
ভোলাগঞ্জ অঞ্চলের সুষম আবহাওয়া রক্ষা এবং ভবিষ্যতের পরিবেশ বিপর্যয় এড়াতে উন্নয়ন প্রকল্পের পাশাপাশি প্রকৃতি রক্ষার বিষয়টি অগ্রাধিকার দেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছেন স্থানীয় সচেতন মহল।