এ কে আজাদ, স্টাফ রিপোর্টার:
সিলেটের গোয়াইনঘাটে ধানের গোলায় লুকিয়ে রাখা ১ হাজার ২০৫ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় কুটিনা বেগম (৪৫) নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১১টার দিকে উপজেলার ১ নং রুস্তমপুর ইউনিয়নের পাতনী এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দাবি, উদ্ধার করা ফেনসিডিলের আনুমানিক বাজারমূল্য ২৪ লাখ ১০ হাজার টাকা।
গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তবর্তী পাতনী এলাকায় বিপুল পরিমাণ মাদক মজুতের খবর পেয়ে রোববার রাতে অভিযান চালায় পুলিশের একটি দল। গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওমর ফারুক মোড়লের নির্দেশনায় এসআই হামিদ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে কুটিনা বেগমের বসতবাড়িতে অভিযান পরিচালনা করেন।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কুটিনা বেগমের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। ঘরের বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও প্রথমে কোনো মাদক পাওয়া যায়নি। পরে ঘরের এক কোণে থাকা ধানের গোলায় তল্লাশি চালানো হলে সেখানে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ফেনসিডিলের সন্ধান পাওয়া যায়।
পুলিশ জানায়, ধানের গোলার ভেতর থেকে বস্তাভর্তি মোট ১ হাজার ২০৫ বোতল ফেনসিডিল জব্দ করা হয়েছে। এ সময় মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে কুটিনা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ওই গ্রামের তেরা মিয়ার স্ত্রী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকা ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের মাদক ও চোরাইপণ্য বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। পরে এসব মাদক বিভিন্ন হাত ঘুরে সীমান্তবর্তী গ্রামসহ শহরাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ছে। এর ফলে মাদকাসক্তির পাশাপাশি চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধের প্রবণতা বাড়ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
গোয়াইনঘাট থানার ওসি ওমর ফারুক মোড়ল বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছি। ধানের গোলায় ফেনসিডিল লুকিয়ে রাখার কৌশল পুলিশের তৎপরতার কারণে ব্যর্থ হয়েছে। মাদকের মূল উৎপাটনে বিশেষ অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সীমান্ত দিয়ে যেকোনো ধরনের মাদক ও চোরাচালান ঠেকাতে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ তৎপর রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার কুটিনা বেগমের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।