বড়লেখা প্রতিনিধি:: মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার ১০ নম্বর দক্ষিণভাগ ইউনিয়নের কামিলপুর গ্রামে ২১টি মহিষের মধ্যে ৩টি মহিষের আকস্মিক মৃত্যু হয়েছে। মৃত তিনটি মহিষই গর্ভবতী ছিল বলে জানিয়েছেন মালিকের পরিবার। এ ঘটনায় পূর্বশত্রুতার জেরে মহিষগুলোকে বিষ প্রয়োগ করে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছেন স্বজনরা। তবে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
মহিষ মালিকের ভাইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২০-২২ বছর ধরে ওই এলাকার কৃষকরা রাতে মহিষগুলো একটি নির্দিষ্ট স্থানে রেখে আসছেন। গ্রামের বাড়িঘরের পাশাপাশি একটি ছোট বিলের এক পাশে উঁচু সমতল জায়গায় মহিষগুলো রাতযাপন করে। সেখানে কোনো পাহারাদার থাকেন না। ছোট ছোট খুঁটির সঙ্গে রশি দিয়ে মহিষগুলো বেঁধে রাখা হয় এবং সকালে গিয়ে রশি খুলে দেওয়া হয়। প্রতিদিনের মতো গত ১১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর কৃষক জবলু মিয়া তার ৩টি মহিষকে অন্য ১৮টি মহিষের পাশে খুঁটির সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে বাড়িতে চলে যান।
পরদিন ১২ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টার দিকে মহিষগুলোর রশি খুলতে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি দেখতে পান, তার ৩টি মহিষ মাটিতে মৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। কিছুক্ষণ পর মৃত মহিষগুলো নিজের বলে শনাক্ত করার পর জবলু মিয়া অসুস্থ হয়ে ঘটনাস্থলেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় তাকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মহিষ সংক্রান্ত একটি বিষয় নিয়ে ঘটনার প্রায় দুই দিন আগে পাশের গ্রামের দুই ব্যক্তির সঙ্গে জবলু মিয়ার বাকবিতণ্ডা ও ঝগড়া হয়েছিল। এরপরই তার তিনটি মহিষের মৃত্যু হওয়ায় পূর্বশত্রুতার জেরে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে।
এদিকে, গৃহপালিত পশুর এমন আকস্মিক মৃত্যুর খবর পেয়ে বড়লেখা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মহিষগুলোর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে কৃষক জবলু মিয়ার ভাইকে পুলিশ আশ্বস্ত করেছে। মহিষগুলোর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশের তদন্ত ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষার পরই মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।