রাজন আহমেদ আরিয়ান : সিলেটের হাম (Measles) রোগীদের জন্য ডেডিকেটেড হিসেবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে। অথচ সংক্রামক রোগীদের চিকিৎসার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই হাসপাতালের মূল ফটকের বারান্দা ও প্রবেশপথ দখল করে বসানো হয়েছে চা-সিগারেটের দোকান। এতে একদিকে যেমন হাসপাতালের প্রবেশপথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে, অন্যদিকে সেখানে প্রকাশ্যে ধূমপান ও যত্রতত্র আবর্জনা ফেলার অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনেই চা-সিগারেট বিক্রি হচ্ছে। দোকানে বসে কয়েকজনকে প্রকাশ্যে ধূমপান করতেও দেখা যায়। একই সঙ্গে গেইটের আশপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ময়লা-আবর্জনা। ফলে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের হাসপাতালের ভেতরে প্রবেশের সময় বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে।
বিশেষ করে হামসহ সংক্রামক রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত হাসপাতালের প্রবেশমুখে ধূমপান, ময়লা-আবর্জনা ও অনিয়ন্ত্রিত দোকানপাটের এমন পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন নাগরিকরা। তাদের মতে, হাসপাতালের মতো স্পর্শকাতর স্থানে স্বাস্থ্যবিধি ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা জরুরি।
একজন রোগীর স্বজন বলেন, “বাচ্চাকে নিয়ে হাম রোগের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে এসেছি। গেইটের সামনেই সিগারেটের ধোঁয়া ও ময়লার গন্ধ। রোগীকে নিয়ে ভেতরে ঢুকতেই কষ্ট হচ্ছে। হাসপাতালের পরিবেশ এমন হওয়ার কথা নয়।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালের মূল ফটকের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে দোকান বসানোর কারণে রোগী ও স্বজনদের চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে। পাশাপাশি প্রকাশ্যে ধূমপানের কারণে চিকিৎসা নিতে আসা শিশু ও অন্যান্য রোগীদের জন্য অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।
বিষয়টি নিয়ে সিলেট জেলা প্রশাসন ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, রোগীদের নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে হাসপাতালের মূল ফটকের সামনে থেকে দোকানপাট সরিয়ে দেওয়া, ধূমপান বন্ধ করা এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। এ বিষয়ে সিটি কর্পোরেশনকে অবহিত করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি দেখা হচ্ছে।