নিজস্ব সংবাদদাতা: সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার কটালপুরে আদালতে চলমান বিরোধপূর্ণ ভূমিতে নির্মাণকাজ করার অভিযোগ উঠেছে। খবর পেয়ে ফেঞ্চুগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছে। একই সঙ্গে উভয় পক্ষকে জমি-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে থানায় উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কটালপুর এলাকার বিরোধপূর্ণ একটি ভূমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। এ ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, সিলেটে মামলা নং-০৩/২০২৬ দায়ের করা হয়েছে। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত দ্বিতীয় পক্ষের চেরাগ আলী (৫০), পিতা-ছরুক্কুম আলী, সাং-খিলপাড়া এবং সমছুদ্দিন (৫০), পিতা-আলাই মিয়া, সাং-দিনপুর, উভয় থানা-ফেঞ্চুগঞ্জ, সিলেটকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ১১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে কুতুব উদ্দিনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারার বিষয়টি আমলে নিয়ে দ্বিতীয় পক্ষকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেন। নোটিশে আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় আদালতে হাজির হয়ে এ বিষয়ে আপত্তি বা জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
অভিযোগকারীদের দাবি, নির্ধারিত তারিখে দ্বিতীয় পক্ষ বিরোধপূর্ণ ভূমির কাগজপত্র নিয়ে আদালতে হাজির হওয়ার কথা থাকলেও তাঁরা সময় প্রার্থনা করেন। আদালত তাঁদের সময় দেন। এরপরও গত ২০ সেপ্টেম্বর বিরোধপূর্ণ ভূমিতে ফের নির্মাণকাজ শুরু করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
বিষয়টি জানিয়ে প্রথম পক্ষ পুলিশকে অবহিত করলে ফেঞ্চুগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়। পরে উভয় পক্ষকে জমি-সংক্রান্ত কাগজপত্র নিয়ে থানায় উপস্থিত হতে বলা হয়।
মামলার তফসিল অনুযায়ী, বিরোধপূর্ণ ভূমিটি সিলেট জেলার ফেঞ্চুগঞ্জ থানার বাড়ুয়া মৌজার জে.এল. নং-বি.এস. ১, বি.এস. খতিয়ান নং-৩০৩৯ ও ৫৬২ এবং এস.এ. দাগ নং-১৭৩০, বি.এস. দাগ নং-১৬৮৬-এর অন্তর্ভুক্ত। জমির পরিমাণ ০.২৪ একর। তফসিলে জমিটির চৌহদ্দি হিসেবে উত্তরে কুতুব আলীর ভূমি, দক্ষিণে প্রথম পক্ষের ভূমি, পূর্বে দুলাল মিয়ার ভূমি এবং পশ্চিমে রেল সড়কের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে ফেঞ্চুগঞ্জ থানা পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের দাবি, আদালতে কোনো ভূমি নিয়ে বিরোধ চলমান থাকলে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আদালতের নির্দেশনা মেনে চলা উচিত। একই সঙ্গে বিরোধপূর্ণ জমিতে যাতে কোনো পক্ষ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।