সিলেট সদর উপজেলার শাহপরাণ থানাধীন বালুচর বাজার সংলগ্ন ১৬/১ মাস্টারবাড়ি প্রাইমারি স্কুলের পাশে ‘লিলির বাসা’ নামে পরিচিত একটি ভাড়া বাসায় পুলিশের অভিযানে শ্লীলতাহানি ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠলেও তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে শাহপরাণ থানা পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য, তিনটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে খালেদ আহমদ নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের ধারাবাহিকতায় ওই বাসায় অভিযান চালানো হয়। খালেদ আহমদ দক্ষিণ সুরমার মোগলাবাজার থানাধীন শ্রীরামপুর গ্রামের মৃত হারিছ আলীর ছেলে এবং সিলেট হকার মার্কেটের ব্যবসায়ী বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিন আগে তিনটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে খালেদ আহমদকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সময়ে তার ছেলেকেও নগরীর টিভি গেইট এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের মিছিলে অংশ নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশের দাবি, খালেদ আহমদ ওই ভাড়া বাসায় অবস্থান করছেন—এমন তথ্য পাওয়ার পর শাহপরাণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জন পুলিশ সদস্য সেখানে অভিযান পরিচালনা করেন।
তবে অভিযানের সময় বাসায় খালেদ আহমদকে পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বাড়ির মালিকের উপস্থিতিতেই পুলিশ বাসাটি তল্লাশি করে সেখান থেকে চলে আসে। এ সময় বাড়ির মালিক ওই ভাড়াটিয়াকে আগামী মাসের মধ্যে বাসা ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেন বলেও দাবি পুলিশের।
পুলিশের ধারণা, বাসা ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ থেকে পরবর্তীতে পুলিশের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি ও ভাঙচুরের মতো অভিযোগ তুলে সংবাদ প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়ে থাকতে পারে।
এদিকে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এর আগে অন্য একটি বাসার মালিকও কথিত উচ্ছৃঙ্খল আচরণের কারণে ওই ভাড়াটিয়াকে বাসা ছাড়তে বলেছিলেন। তবে এ তথ্যের স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
শাহপরাণ থানার এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, “এটি ছিল নিয়মিত একটি অভিযান। ওসির নেতৃত্বে আমরা ১৫ থেকে ২০ জন পুলিশ সদস্য এবং বাড়ির মালিককে সঙ্গে নিয়ে সেখানে যাই। অভিযানের সময় শ্লীলতাহানি বা ভাঙচুরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। অভিযোগটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করা হয়েছে বলে আমরা মনে করছি।” তিনি আরও বলেন, ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
তবে পুলিশের বিরুদ্ধে উত্থাপিত শ্লীলতাহানির অভিযোগকারী বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, বাসার মালিকের অবস্থান, সিসিটিভি ফুটেজ (যদি থাকে) এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন। এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। মামলার তথ্য নিম্নরুপ: ১। এফআইআর নং-২৬/৪৭৬, ২। শাহপরান (রঃ) থানার, এফআইআর নং-০২/ ২০২৪; জি আর নং-২৮৭, ৩। এসএমপি এর শাহপরান (রঃ) থানার, এফআইআর নং-২/২০২৩; জি আর নং-২৪৮, ৪। সিআর নং-২৬৭/২১,