এ কে আজাদ, স্টাফ রিপোর্টার: সিলেটের গোয়াইনঘাটে অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলন ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান জোরদার হওয়ায় একটি স্বার্থান্বেষী মহল ক্ষুব্ধ হয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের দাবি, অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে নিজেদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় একটি চক্র বিভিন্ন মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা করছে।
স্থানীয় সচেতন মহল ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গোয়াইনঘাট থানায় ওসি ওমর ফারুক যোগদানের পর নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সীমান্তবর্তী বিছানাকান্দি ও হাদারপাড় এলাকায় অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলন বন্ধে পুলিশের তৎপরতা বেড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নৌযান ও বাল্কহেডের শ্রমিকদের কাছ থেকে বিভিন্ন কৌশলে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে।
পুলিশ বলছে, ওই চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৯ জুন সালুটিকর এলাকায় অভিযান চালিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের রশিদ বই ও নগদ অর্থ উদ্ধারের কথা জানায় পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য, অভিযানের ফলে অবৈধভাবে চাঁদা আদায়ের সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টি হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই ওসি ও পুলিশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে তাদের দাবি।
এদিকে বিছানাকান্দি ও হাদারপাড় পর্যটনকেন্দ্রে পরিবেশ রক্ষায় উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে পুলিশ কাজ করছে বলে জানা গেছে। অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলন বন্ধ এবং পর্যটনকেন্দ্রের পরিবেশ রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে গোয়াইনঘাট থানার ওসি ওমর ফারুক বলেন, অন্যায় ও অপরাধের সঙ্গে কোনো আপস নয়। আমার অবস্থান জিরো টলারেন্স। অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলনকারী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমার বা পুলিশের নাম ব্যবহার করে কোথাও চাঁদা আদায়ের সুযোগ নেই।
তিনি আরও বলেন, পুলিশের অভিযানে যাদের অবৈধ আয়ের পথ বন্ধ হয়েছে, তারাই বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালাতে পারে। তবে এ ধরনের অপপ্রচারে পুলিশের আইনগত কার্যক্রম থেমে থাকবে না।
থানা পুলিশ জানিয়েছে, নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলন বন্ধ এবং চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে পুলিশের নাম ব্যবহার করে কেউ চাঁদাবাজি করলে তার বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।