স্টাফ রিপোর্টার: সিলেট সিটি করপোরেশনের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের সচিব সঞ্জিত দেবনাথের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা, স্বজনপ্রীতি এবং দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে গোপনে সহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে। তিনি সিলেট সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সহসভাপতি ছিলেন বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সঞ্জিত দেবনাথ।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, সঞ্জিত দেবনাথ ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর রুহেল আহমদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। রুহেল আহমদ যে কমিটির সভাপতি ছিলেন, সেই কমিটিতে সঞ্জিত দেবনাথ ১১ নম্বর সহসভাপতি পদে ছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। ঘনিষ্ঠতার সুবাদে সাবেক কাউন্সিলর রুহেল আহমদ তাকে ওয়ার্ড সচিব হিসেবে নিয়োগ দেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির অনেক নেতাকর্মী আত্মগোপনে গেলেও সঞ্জিত দেবনাথ সিটি করপোরেশনের সচিব পদে বহাল থাকেন। বর্তমানে ওই পদ ব্যবহার করে তিনি আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে গোপনে সহযোগিতা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সঞ্জিত দেবনাথের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতিসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। আওয়ামী লীগ-সমর্থকরা ওয়ার্ড সচিবের কাছে কোনো কাজ নিয়ে গেলে তা দ্রুত সম্পন্ন করা হয়। কিন্তু অন্য রাজনৈতিক দলের সমর্থকরা সেবা নিতে গেলে নানা টালবাহানা করে সময়ক্ষেপণ করা হয় বলে অভিযোগ তাদের।
এদিকে, ২০২৪ সালের ২৩ মার্চ সিলেট সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের যে কমিটি গঠন করা হয়, সেখানে সঞ্জিত দেবনাথকে সহসভাপতি করা হয় বলে জানা গেছে। ওই কমিটির মেয়াদ এক বছর হলেও সরকার পতনের পরও কমিটিটি বহাল রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সঞ্জিত দেবনাথের রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে জানতে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাই রাফিন সরকারের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে অভিযোগ দেওয়ার কথা বলেন। সাংবাদিক হিসেবে কেন অভিযোগ দিতে হবে—এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই।’
সিটি করপোরেশনের সচিব আশিক নূরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। ডকুমেন্ট থাকলে পাঠান, ব্যবস্থা নেব।’
এ বিষয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুমের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।