সিলেট মুক্ত দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ (রবিবার) সিলেট নগরীর জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম।
সভায় সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, সিলেট মুক্ত দিবস উদযাপন একটি স্মরণীয় উদ্যোগ। মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ। জীবিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বক্তব্য, স্মৃতিচারণ ও লেখনীর মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে সিলেটের মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানানো সম্ভব হবে।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা পরিষদের প্রশাসক বলেন, আগামী ১৫ ডিসেম্বর সিলেট মুক্ত দিবস ব্যাপকভাবে উদযাপনে সকলের অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা প্রয়োজন। সভায় বিভিন্ন শ্রেণি- পেশার মানুষের কাছ থেকে যে পরামর্শ ও প্রস্তাব এসেছে, সেগুলো বাস্তবায়নে পরবর্তী সময়ে একটি উদযাপন কমিটি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন উপকমিটি গঠন করা হবে। তিনি বলেন, অনুষ্ঠানকে সফল করতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসভিত্তিক স্মারকগ্রন্থ প্রকাশ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রচার, ব্যবস্থাপনা ও সংবর্ধনাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে রচনা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে স্মৃতিচারণমূলক অনুষ্ঠান করা যেতে পারে। একই সঙ্গে সিলেটে মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যক্ষদর্শী ও রণাঙ্গনের যোদ্ধাদের স্মৃতিচারণ ও লেখা সংরক্ষণ করে স্মারকগ্রন্থে প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে এবং অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে ডিসেম্বরের আগে আরও কয়েকটি পরামর্শ সভা করা হবে বলে তিনি জানান।
সভায় বক্তারা বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের ১৫ ডিসেম্বর সিলেট পাকিস্তানি হানাদারমুক্ত হয়। সিলেট মুক্ত দিবসের আয়োজনের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরার পাশাপাশি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান স্মরণ করা সম্ভব হবে।
সভায় সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান মিফতাহ সিদ্দিকী, মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, জালালাবাদ গ্যাসের পরিচালক বদরুজ্জামান সেলিম, বীর মুক্তিযোদ্ধা সদর উদ্দিন চোধুরী, সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি মুকতাবিস-উন-নূরসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক নেতৃবৃন্দ এবং গণমাধ্যম প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।