নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেট মহানগরীতে কিশোর গ্যাং, ছিনতাই ও মাদকসংক্রান্ত অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান, চেকপোস্ট স্থাপন ও তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি।
পুলিশ সূত্রে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গেছে, নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত যানবাহনে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাই ও প্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলেও জানা গেছে।
বিশেষ করে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। কিশোরদের সংঘবদ্ধ হয়ে অপরাধে জড়িয়ে পড়া ঠেকাতে সন্দেহভাজনদের গতিবিধির ওপরও নজর রাখা হচ্ছে। ছিনতাই ও মাদকসংক্রান্ত অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার পেছনে পারিবারিক অসচেতনতা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বিচ্ছিন্নতা, বেকারত্ব, মাদকাসক্তি ও সঙ্গদোষসহ বিভিন্ন কারণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান দিয়ে এ সমস্যা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক সংগঠনগুলোকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তাদের মতে, কিশোরদের নিয়মিত খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও শিক্ষামূলক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা গেলে অপরাধপ্রবণতা কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব। পাশাপাশি অভিভাবকদেরও সন্তানদের চলাফেরা, বন্ধুত্ব ও অনলাইন কার্যক্রমের বিষয়ে সচেতন থাকা প্রয়োজন।
নগরবাসীর প্রত্যাশা, পুলিশের নিয়মিত অভিযান ও কার্যকর নজরদারির পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধ জোরদার হলে সিলেট মহানগরীতে ছিনতাই, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধমূলক তৎপরতা কমে আসবে। একই সঙ্গে নগরবাসীর নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে।