রাজন আহমেদ আরিয়ান : সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-৩ এর অধীনস্থ এলাকাগুলোতে মারাত্মক লোডশেডিং ও চরম অব্যবস্থাপনার কারণে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন গ্রাহকেরা। কোনো ধরনের আগাম বার্তা ছাড়াই দিন-রাত ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা হচ্ছে। একদিকে বিদ্যুৎহীন জীবনযাপন, অন্যদিকে অফিসে সেবা নিতে গিয়ে চরম ভোগান্তি—সব মিলিয়ে গ্রাহকদের ক্ষোভ তুঙ্গে উঠেছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দিনে ১০ থেকে ১২ বারেরও বেশি বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করে। এক ঘণ্টার জন্য বিদ্যুৎ এলে পরের ২-৩ ঘণ্টা উধাও হয়ে যায়। এই গরমে মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রবীণ, রোগী ও শিশুরা। বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে বাসাবাড়ির স্বাভাবিক পানির সরবরাহ।
বিদ্যুৎ সরবরাহের এই অনিশ্চয়তার কারণে শিক্ষার্থী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সামনে পরীক্ষা থাকলেও লোডশেডিংয়ের কারণে পড়তে পারছে না শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে দোকানপাট, কারখানা ও ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে দৈনিক কাজকর্ম, দেখা দিয়েছে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি।
বিদ্যুৎ সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ বা বিলের সংশোধনী নিয়ে পিডিবি সিলেট-৩ অফিসে গেলে দেখা মেলে অন্যরকম দুর্বিষহ চিত্র। গ্রাহকদের অভিযোগ—
অসহযোগিতামূলক আচরণ: কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছে সমস্যা নিয়ে গেলে তারা সঠিক কোনো সমাধান না দিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখেন।
দায়িত্ব এড়ানোর প্রবণতা: কন্ট্রোল রুম বা হটলাইনে ফোন দিলে অনেক সময় কেউ ফোন রিসিভ করেন না, আবার রিসিভ করলেও সন্তোষজনক কোনো উত্তর মেলেনি।
দীর্ঘ লাইন ও অব্যবস্থাপনা: সামান্য কাজের জন্য সাধারণ মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে কাটাতে হচ্ছে। স্থানীয় এক ভুক্তভোগী গ্রাহক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মাসের পর মাস ভূতুড়ে বিল ঠিকই দেওয়া হয়, কিন্তু নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের দেখা নেই। অফিসে সামান্য অভিযোগ জানাতে গেলেও দীর্ঘ সময় ভোগান্তি পোহাতে হয়। এটি সম্পূর্ণ তাদের চরম গাফিলতি ও অব্যবস্থাপনার ফল।"
ভুক্তভোগী এলাকাবাসী অবিলম্বে এই অব্যাহত লোডশেডিং বন্ধ করা এবং পিডিবি সিলেট-৩ অফিসের প্রশাসনিক হয়রানি ও গ্রাহক ভোগান্তি নিরসনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।