দিরাই প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের দিরাই-শাল্লা বরাবরই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জনপদ। এ সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রাখার আহ্বান জানিয়েছেন সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনের সংসদ সদস্য নাছির উদ্দীন চৌধুরী। আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদ্যাপনে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং পূজামণ্ডপ গুলোতে সরকারি বরাদ্দ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা পরিষদের সম্মেলনকক্ষে শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উদ্যাপন উপলক্ষে দুর্গাপূজাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সঞ্জীব সরকারের সভাপতিত্বে সভায় সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অশুক তালুকদার।
সংসদ সদস্য নাছির উদ্দীন চৌধুরী বলেন, ‘দিরাই-শাল্লা বরাবরই সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ। আপনারা এই সম্প্রীতি বজায় রাখবেন।’ তিনি জানান, চিকিৎসার জন্য তাঁকে দেশের বাইরে যেতে হবে। যাওয়ার আগে দুর্গাপূজা চলাকালে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে কথা বলবেন। পাশাপাশি কোথাও যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক থাকার কথা বলবেন। পূজামণ্ডপের বরাদ্দ প্রসঙ্গে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রতিটি পূজামণ্ডপে এক টন করে চাল বরাদ্দ দেওয়ার নির্দেশনা দেন।
সভায় বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আব্দুর রশিদ চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আমির হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির তালুকদার, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মিজানুর রহমান, পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক সরদার, দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাব্বির মিয়া,দিরাই প্রেসক্লাবের সভাপতি জিয়াউর লিটন, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মোঃ শাহ আলম, ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ রুদ্র মিজান, উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের আহ্বায়ক মনোজ পুরকায়স্থ, সদস্য সচিব স্বাধীন চৌধুরী, পৌর পূজা উদ্যাপন পরিষদের আহ্বায়ক বকুল বনিক এবং পূজা উদ্যাপন ফ্রন্টের সভাপতি হরি দেবনাথ। এ ছাড়া উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকেরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
সভায় আসন্ন দুর্গাপূজা সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে উদ্যাপনের লক্ষ্যে সার্বিক প্রস্তুতি, নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়ে আলোচনা হয়। পূজামণ্ডপগুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় রাখা এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পূজা উদ্যাপন কমিটির পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা প্রকাশ করেন, সবার সম্মিলিত উদ্যোগে দিরাইয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও আনন্দঘন পরিবেশে উদ্যাপিত হবে।