মোঃ আব্দুল মালিক,জকিগঞ্জ: সিলেটের জকিগঞ্জে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পূজামণ্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আট প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি পূজামণ্ডপে নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বিজিবি।মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে জকিগঞ্জ উপজেলার তেলিকান্দি এলাকার শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর আখড়া পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান ১৯ বিজিবি জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল সুহেল আলম, পিবিজিএম। প্রেস ব্রিফিংয়ে বিজিবি অধিনায়ক সীমান্তবর্তী জনপদের ধর্মীয় সম্প্রীতির প্রশংসা করেন।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন,শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব সম্পন্ন হবে। পূজার সার্বিক নিরাপত্তা ও শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিজিবি সদস্যরা সর্বোচ্চ তৎপর রয়েছেন।বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সিলেট সেক্টরের অধীন জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ ১৩১ দশমিক ৫ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। জৈন্তাপুর,কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী ৮১ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে অবস্থিত ৫৭টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জকিগঞ্জে একটি বিশেষ বেইজ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি আট প্লাটুন বিজিবি সদস্য সরাসরি নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন।পূজাকালীন যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা সম্পর্কে দ্রুত তথ্য সংগ্রহ এবং তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে বিজিবি সদস্যরা এনটিএমসি প্রস্তুতকৃত ‘শারদীয় সুরক্ষা’ অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে ‘রেসপন্ডার’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এদিকে,পূজামণ্ডপের নিরাপত্তার পাশাপাশি সীমান্ত দিয়ে চোরাচালান,অবৈধ অনুপ্রবেশ, পুশইন,মাদক ও অস্ত্র-গোলাবারুদ পাচারসহ সব ধরনের সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধেও বিজিবি কঠোর সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।পরিদর্শনকালে ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক খলাছড়া ইউনিয়নের বিত্তলাল বিশ্বাসের বাড়ির পূজামণ্ডপ এবং সদরপুর গ্রামের কালীবাড়ি পূজামণ্ডপও পরিদর্শন করেন। এ সময় বিজিবির পক্ষ থেকে মণ্ডপগুলোর দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের হাতে ফল ও উপহারসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। মণ্ডপ কর্তৃপক্ষের নেতৃবৃন্দ বিজিবি অধিনায়ককে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান এবং পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবির এ উদ্যোগের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা,উৎসবমুখর পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং সীমান্তবর্তী এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষায় বিজিবির এ তৎপরতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।