বিশেষ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের যাদুকাটা নদীর বালু-পাথর মহালের ইজারা ও শেয়ার লেনদেন নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আজাদ হোসাইন এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক ও সুনামগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক অসীম চন্দ্র বণিকের কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনাকে ঘিরে জেলাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ছড়িয়ে পড়া অডিওতে যাদুকাটা নদীর বালু-পাথর মহালের শেয়ার লেনদেন ও ইজারাসংক্রান্ত বিষয়ে তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে অডিওটির সত্যতা, সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট এবং কথোপকথনের ভিত্তিতে সরকারি কর্মকর্তার কোনো ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহলের অনেকে।
আজাদ হোসাইন জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এবং বালিজুরি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচিত। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলায় আসামি থাকার অভিযোগও রয়েছে। অন্যদিকে অসীম চন্দ্র বণিক স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সুনামগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্বে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে অসীম চন্দ্র বণিক পৌর প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণের পর বিভিন্ন ব্যবসায়ীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মালিকদের কাছ থেকে রসিদ ছাড়াই টাকা আদায়ের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় কয়েকজন। তাঁদের দাবি, প্রায় ২ হাজার ৮০০ অটোরিকশার মালিকের কাছ থেকে প্রতিটি গাড়ির জন্য ৩৫০ টাকা করে আদায় করা হয়ে থাকলে মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
এ ছাড়া যাদুকাটা, চেলা নদী ও ধোপাজান নদী থেকে অবৈধভাবে টাকা আদায়ের অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা নথি, অর্থ আদায়ের রসিদ, সংশ্লিষ্ট হিসাব কিংবা নির্দিষ্ট অভিযোগকারীদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে জানতে অসীম চন্দ্র বণিকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সরকারি মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. মিনহাজুর রহমান বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক অসীম চন্দ্র বণিক ও আজাদ হোসেনের ফাঁস হওয়া অডিওটি তাঁদের একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়। তিনি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছেন বলে জানান।
সংশ্লিষ্ট অডিওর সত্যতা যাচাই, ইজারা ও শেয়ার লেনদেনের প্রকৃত অবস্থা অনুসন্ধান এবং পৌরসভার অর্থ আদায়ের হিসাব নিরীক্ষার মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।