সিলেটের তামাবিল সড়কের পীরের বাজার এলাকায় অনটেস্ট সিএনজিচালিত অটোরিকশার বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে ট্রাফিক পুলিশ। শাহপরান থানাধীন মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির সামনে পরিচালিত এ অভিযানে ১২টির বেশি সিএনজিচালিত অটোরিকশা রেকার করা হয়েছে।
অভিযান চলাকালে উপস্থিত ট্রাফিক সার্জেন্ট জানিয়েছেন, অনটেস্ট সিএনজিচালিত অটোরিকশার বিরুদ্ধে ট্রাফিক পুলিশের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং নিয়মবহির্ভূত যানবাহন চলাচল বন্ধে তাদের তৎপরতা চলমান থাকবে বলেও জানান তিনি।
তবে এ অভিযানকে কেন্দ্র করে সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে নানা অভিযোগ সামনে এসেছে। কয়েকজন চালকের দাবি, মাসিক টোকেনের মাধ্যমে অনেক অনটেস্ট গাড়ি সড়কে চলাচল করছে। তাদের অভিযোগ, ট্রাফিক পুলিশের কিছু সদস্যের সঙ্গে মাসিক লেনদেনের কারণে এসব গাড়ি নিয়মিত চলাচলের সুযোগ পায়। যারা মাসিক টাকা দেন, তাদের গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয় না বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন চালক। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক পুলিশের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
চালকদের অভিযোগ, একদিকে মাসিক টোকেন বাণিজ্যের চাপ, অন্যদিকে সড়কে আকস্মিক অভিযান—দুই দিক থেকেই তারা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তারা এ ধরনের অনিয়ম ও হয়রানি থেকে মুক্তি চান।
এদিকে অনটেস্ট গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার সময় যাত্রীদের দুর্ভোগের বিষয়টিও সামনে এসেছে। হঠাৎ অভিযান চালিয়ে গাড়ি রেকার করা হলে মাঝপথে যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়া হয়। এতে বিশেষ করে নারী, শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও অসুস্থ রোগীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। জরুরি প্রয়োজনে হাসপাতালে যাতায়াতকারী রোগীরাও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে ঝুঁকির মুখে পড়েন।
স্থানীয় জনসাধারণের মতে, সড়কে অবৈধ ও অনিয়মতান্ত্রিক যানবাহন চলাচল বন্ধ করা জরুরি। তবে অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে যাত্রীদের নিরাপত্তা ও মানবিক দিকটিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে মাসিক টোকেনের নামে কোনো অনিয়ম বা অবৈধ লেনদেন হয়ে থাকলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
জনসাধারণের দাবি, অনটেস্ট যানবাহন চলাচল বন্ধে নিয়মিত অভিযান, কথিত মাসিক টোকেন বাণিজ্যের অভিযোগ তদন্ত এবং যাত্রীদের হয়রানি রোধে একটি কার্যকর ও আইনসম্মত সমাধান নিশ্চিত করতে হবে।