বিজিবির রেশন উত্তোলনে ভুয়া চাহিদাপত্র ব্যবহারের অভিযোগ, চার বছরে বিপুল খাদ্যশস্য আত্মসাতের দাবি
সিলেট প্রতিনিধি: সিলেট বিভাগের বিভিন্ন উপজেলায় ওএমএস ডিলার নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে বিজিবি সদস্যদের রেশন উত্তোলনের ক্ষেত্রে চাহিদাপত্র জালিয়াতি করে পাঁচটি খাদ্যগুদাম থেকে বিপুল পরিমাণ খাদ্যশস্য আত্মসাতের অভিযোগও সামনে এসেছে। এসব অভিযোগে বিভাগীয় খাদ্য নিয়ন্ত্রক (আরসি ফুড) সাইফুল ইসলামের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তাধীন বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, ২০২২ সালে সিলেটে যোগদানের পর সাইফুল ইসলাম সেলিম নামের এক ব্যক্তিকে বিজিবির খাদ্যশস্য সরবরাহসংক্রান্ত ডিলার নিয়োগে সহযোগিতা করেন। এরপর ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত চার বছরে সিলেট সদর, বিয়ানীবাজার, সুনামগঞ্জ সদর, হবিগঞ্জ সদর ও মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল খাদ্যগুদাম থেকে বিজিবির সদস্যদের রেশন উত্তোলনের চাহিদাপত্র জাল করে এবং ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে বিপুল পরিমাণ খাদ্যশস্য সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা খাদ্য কার্যালয়ের কর্মকর্তা এবং ডিলারদের ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে ডিলারশিপ বাতিলের ভয় দেখানো এবং কর্মকর্তাদের বদলি করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য নথি ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য পাওয়া প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলেও অভিযোগের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা খাদ্যশস্য উদ্ধার কিংবা ঘাটতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। খাদ্য অধিদপ্তরের বিশেষ অডিটেও খাদ্যশস্যের ঘাটতি নিয়ে আপত্তি তোলা হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘাটতির পরিমাণ নিরূপণ ও দায় নির্ধারণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে।
এদিকে সিলেট বিভাগীয় দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রকাশ্য গণশুনানিতে খাদ্য বিভাগের বিভিন্ন দপ্তরের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠে আসে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। অভিযোগগুলো তদন্তের জন্য সিলেটের জেলা প্রশাসককে দায়িত্ব দেওয়া হলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মাসুদ রানা তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন বলে জানা গেছে। তবে তদন্তের অগ্রগতি ও চূড়ান্ত প্রতিবেদন সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
বিজিবির মূল চাহিদাপত্রে জালিয়াতির মাধ্যমে কী পরিমাণ খাদ্যশস্য আত্মসাৎ করা হয়েছে, তা জানতে চলতি বছরের জানুয়ারিতে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করেন একজন গণমাধ্যমকর্মী। কিন্তু তথ্য না পাওয়ায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ বিষয়ে সিলেট জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. জাকারিয়া মোস্তফা বলেন, বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় বিভাগীয় খাদ্য নিয়ন্ত্রক সাইফুল ইসলামের অনুমতি ছাড়া তথ্য দেওয়া সম্ভব নয়।
এ বিষয়ে স্থানীয় মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীকে অবহিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তিনি বলেন, “সরকারি সম্পদ উদ্ধারে যা যা করণীয়, তাই করা হবে। কোনো দুর্নীতিবাজকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
অন্যদিকে, বিভাগীয় খাদ্য নিয়ন্ত্রক সাইফুল ইসলামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। অভিযোগে উল্লিখিত সেলিমের বক্তব্যও এ প্রতিবেদনের জন্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তে অভিযোগগুলোর সত্যতা, খাদ্যশস্যের ঘাটতির প্রকৃত পরিমাণ এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দায় নির্ধারিত হবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।