সিলেট নগরীর শাহপরান (রহ.) থানাধীন ইসলামাবাদ এলাকায় ব্যবসায়িক ও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে একটি বসতবাড়ি ও দোকানে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নারীসহ পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট এবং পাঁচটি গরু নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে ১০ জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে নালিশি মামলা দায়ের করেছেন রোমানা বেগম (৪০) নামের এক নারী। মামলা নং-৪৪৩/২৬ ইং।
গত ১০ অক্টোবর ২০২৬ বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে ইসলামাবাদ এলাকায় বাদীর বসতবাড়ি ও দোকানে এ ঘটনা ঘটে বলে মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে। আদালতে দায়ের করা অভিযোগ অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে বাদী রোমানা বেগমের স্বামী লেছু খানের সঙ্গে অভিযুক্তদের ব্যবসায়িক ও জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে ঘটনার দিন ১ নম্বর আসামির নেতৃত্বে ১০ জন নামীয় আসামি এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২৫ থেকে ৩০ জন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাঁদের বাড়ি ও দোকানে হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। মামলার বিবরণে বলা হয়, হামলাকারীরা দা, রামদা, জিআই পাইপ, লোহার রড, লোহার আংটা ও চাইনিজ কুড়ালসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রথমে দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাট শুরু করেন।
এ সময় বাদীর ছেলে রবিন খান বাধা দিতে গেলে তাঁকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মারধর ও টেনেহিঁচড়ে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ছেলের চিৎকার শুনে রোমানা বেগম ঘর থেকে বের হয়ে তাঁকে উদ্ধারের চেষ্টা করলে একপর্যায়ে ১ নম্বর আসামি ধারালো দা তাঁর গলায় চেপে ধরে প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। পরে প্রাণভয়ে মা ও ছেলে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে দরজা বন্ধ করে দেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা দোকানে থাকা আনুমানিক তিন লাখ টাকার মুদি মালামাল এবং ক্যাশবাক্সে থাকা ৪১ হাজার ৬০০ টাকা লুট করে নিয়ে যান। পরে বসতঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে আলমিরায় রাখা প্রায় ৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। এ ছাড়া গোয়ালঘরে বাঁধা পাঁচটি গরু, যার আনুমানিক মূল্য তিন লাখ টাকা, জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বাড়ির সামনে ও পেছনের গাছপালা কেটে ফেলার পাশাপাশি বসতবাড়ি ও বোরাল ঘরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলেও মামলার আরজিতে দাবি করেছেন বাদী।
এ ঘটনার ভিডিও তাঁর কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ঘটনার পর বাদীর ছেলে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। স্থানীয়দের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং মা-ছেলেকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পরবর্তী সময়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সহায়তায় পুলিশ তাঁদের হেফাজতে নিয়ে পরদিন আদালতে পাঠায় বলেও বাদী অভিযোগ করেছেন। এদিকে ঘটনার পর অভিযুক্তরা মামলা করলে বাদী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের আরও ক্ষতি করা, তাঁর স্বামীকে রাস্তায় সুযোগ পেলে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে বর্তমানে তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে মামলার আরজিতে উল্লেখ করেছেন রোমানা বেগম। বাদীর দাবি, হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তাঁর মোট ১৩ লাখ ৩১ হাজার ৬শত টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এ ঘটনায় তিনি ১০ জনকে আসামি করে সিলেটের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও আমলী আদালত নং-৩-এ দণ্ডবিধির ১৪৩/১৪৭/১৪৮/৩২৩/৩২৪/ ৩২৫/৩০৭/ ৩৭৯/৪২৭/৪৩৬/৫০৬(২) ধারায় নালিশি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ এবং অভিযোগগুলোর সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে। মামলায় বিবাদীরা হলেন:- আবুল সামাদ (৪০), জুয়েল আহমদ (৩৮), শামীম আহমদ (৩৫), আফছর আহমদ (৩৪), মান্না আহমদ (২৬), সুমন আহমদ (৩২), সেবুল মিয়া (৪৮), সায়েম আহমদ (১৯), শাহানারা বেগম (৩৫), ছাদিক আহমদ (৩৭), সর্বসাং-ইসলামাবাদ, ডাক-খাদিমনগর-৩১০৩, থানা-শাহপরান (রহঃ), জেলা-সিলেট। অজ্ঞাতনামা আরো ২৫/৩০ জন।