• ১৯শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ,

ডিপজলকে নিয়ে বিএসএফের ‘লুকোচুরি’

Daily Sonali Sylhet
প্রকাশিত জুন ১৮, ২০২৬
ডিপজলকে নিয়ে বিএসএফের ‘লুকোচুরি’

নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেটের জকিগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশের পর নিখোঁজ হয়েছেন ডিপজল আহমেদ (২৫) নামের এক যুবক। স্থানীয়রা দাবি করছেন, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে তার মৃত্যু হয়েছে এবং তার মরদেহ সীমান্তের ওপারে আটকে রাখা হয়েছে। তবে বিএসএফ এ অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, ডিপজলের নিখোঁজ হওয়া বা গুলিবিদ্ধ হওয়ার বিষয়ে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার উত্তরকুল সীমান্তে বাংলাদেশী ও ভারতীয় নাগরিকদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

তার সন্ধানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর মধ্যে একাধিক দফা পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বিজিবি-১৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জুবায়ের আনোয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ‘ডিপজলের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা নিয়ে বিএসএফের সঙ্গে কয়েক দফা পতাকা বৈঠক হয়েছে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত আড়াই ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকেও বিএসএফ দাবি করেছে, সীমান্তের ওপারে কোনো গুলির ঘটনা কিংবা ডিপজলের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে তারা কিছু জানে না।’

তিনি বলেন, ‘ডিপজলের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য জানতে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। বিএসএফও আমাদের আশ্বস্ত করেছে যে তারা নিখোঁজ যুবকের খোঁজে অনুসন্ধান অব্যাহত রাখবে।’

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার বারঠাকুরী ইউনিয়নের দিঘালী গ্রামের আহমদ আলীর ছেলে ডিপজল আহমেদ (২৫)। গত রবিবার (১৪ জুন) ডিপজলসহ ৪-৫ জন যুবকের সঙ্গে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন। পরে দেশে ফেরার সময় বিএসএফ সদস্যরা তাদের ধাওয়া করে এবং গুলি চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে। ডিপজলের সঙ্গে থাকা অন্যরা পালিয়ে বাংলাদেশে ফিরে এলেও তিনি আর ফেরেননি। এরপর থেকেই তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

স্থানীয়রা দাবি করছেন, বিএসএফের গুলিতে ডিপজলের মৃত্যু হয়েছে। তবে ঘটনার দিনই অনুষ্ঠিত বিজিবি-বিএসএফ পতাকা বৈঠকে বিএসএফ এ অভিযোগ অস্বীকার করে। ঘটনার পর বিজিবি-১৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করেন।

এদিকে সূত্র জানায়, বিএসএফ’র গুলিতে ডিপজলের মৃত্যুর গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লে জকিগঞ্জ সীমান্তে উত্তেজনা দেখা দেয়। সীমান্তবর্তী লোকজনের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়। এর জের ধরে মঙ্গলবার সকালে ভারতের শ্রীভূমি জেলার রাজারটিলা জিপির অন্তর্গত কিন্নখাল এলাকার বাসিন্দা রঞ্জিত দাস (৬০) নামের এক ভারতীয় নাগরিককে সীমান্তের শূন্যরেখা এলাকা কয়েকজন যুবক ধরে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। এই সংবাদে সীমান্তের ওপারের বাসিন্দাদেরও মাঝেও ক্ষোভ দেখা দেয়। পরে মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে বিজিবি ও বিএসএফ’র মধ্যে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে রঞ্জিত দাসকে অক্ষত অবস্থায় ভারতের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘একজন বাংলাদেশি যুবক ভারতে প্রবেশের পর নিখোঁজ হয়েছেন বলে আমরা জেনেছি। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। সীমান্ত-সংক্রান্ত বিষয় হওয়ায় বিজিবির পাশাপাশি পুলিশও সার্বক্ষণিকভাবে বিষয়টির খোঁজখবর রাখছে।’