• ১৯শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ,

বিশ্বনাথে ব্যবসায়ীর স্ত্রী ও মালামাল নিয়ে উধাও পুলিশের কনস্টেবল, পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ

Daily Sonali Sylhet
প্রকাশিত জুন ১৮, ২০২৬
বিশ্বনাথে ব্যবসায়ীর স্ত্রী ও মালামাল নিয়ে উধাও পুলিশের কনস্টেবল, পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার: সিলেটের বিশ্বনাথ থানায় কর্মরত এক পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে এক ব্যবসায়ীর স্ত্রীকে প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং বিপুল পরিমাণ মালামাল ও স্বর্ণালংকার আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী সিলেটের পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগকারী আব্দুল ওয়াদুদ ইমন (৩৮) হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার গুলডোবা গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি বিশ্বনাথ উপজেলার সুরমা আবাসিক এলাকায় বসবাস করেন। তার অভিযোগ, বিশ্বনাথ থানায় কর্মরত কনস্টেবল নাজমুল হোসেন তার স্ত্রী পিয়ারা আক্তার খুশীকে (৩৯) প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে গেছেন। খুশী সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার বালিজুরি মেগারগাঁও গ্রামের শফিক মিয়ার মেয়ে।

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০২০ সালে ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক খুশীর সঙ্গে ইমনের বিয়ে হয়। বিবাহের পর থেকে তারা একসঙ্গে সংসার করে আসছিলেন। ব্যবসার কাজে ইমন প্রায়ই বাইরে অবস্থান করতেন। এই সুযোগে কনস্টেবল নাজমুল হোসেনের সঙ্গে তার স্ত্রীর পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ইমনের দাবি, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে তাদের মধ্যে পরকীয়া সম্পর্ক তৈরি হয়। একপর্যায়ে বিষয়টি তার নজরে এলেও সামাজিক মর্যাদার কথা চিন্তা করে সংসার টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেন। তবে পরবর্তীতে খুশী তার সঙ্গে বিরূপ আচরণ শুরু করেন এবং তালাকের জন্য চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, কনস্টেবল নাজমুলের পরামর্শে খুশী তার স্বামীর মালিকানাধীন ৩টি সিএনজি অটোরিকশা, একটি স্টিলের নৌকা, ৫ ভরি স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন সম্পদ হাতিয়ে নেন। এসব সম্পদের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩৭ লাখ টাকা।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, গত ২৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে কনস্টেবল নাজমুল খুশীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যান। পরে স্থানীয়ভাবে সালিশ-বৈঠক ও বিচার-পঞ্চায়েতের মাধ্যমে স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন তিনি। এ অবস্থায় বিশ্বনাথ থানা ও সিলেটের পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করলে কনস্টেবল নাজমুল তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন।

এ বিষয়ে আব্দুল ওয়াদুদ ইমন বলেন, “আমি ন্যায়বিচার চাই। আমার স্ত্রী ও আমার কষ্টার্জিত সম্পদ ফিরিয়ে পেতে পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।” তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কনস্টেবল নাজমুল হোসেন বলেন, “ইমনের স্ত্রী কোথায় আছেন তা আমি জানি না। তার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে।” এ ব্যাপারে সিলেটের পুলিশ সুপারের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, অভিযোগের বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত সাপেক্ষে সত্যতা নির্ধারণ করা হবে।