• ৩রা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ,

জৈন্তাপুর সীমান্তে চোরাচালানের বিশাল সিন্ডিকেট: ওসি-দারোগাদের বিরুদ্ধে লাখ লাখ টাকার চাঁদাবাজির অভিযোগ

Daily Sonali Sylhet
প্রকাশিত আগস্ট ২, ২০২৬
জৈন্তাপুর সীমান্তে চোরাচালানের বিশাল সিন্ডিকেট: ওসি-দারোগাদের বিরুদ্ধে লাখ লাখ টাকার চাঁদাবাজির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেটের সীমান্তবর্তী জৈন্তাপুর উপজেলায় সীমান্ত চোরাচালানকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা একটি প্রভাবশালী চক্র এবং এর সাথে স্থানীয় থানা পুলিশের কতিপয় কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জৈন্তাপুর মডেল থানার সীমান্ত পয়েন্টগুলো ব্যবহার করে রাতের আঁধারে প্রতিদিন শত শত ভারতীয় গরু, মহিষ এবং নানা ধরনের সুপারি, কসমেটিকস ও চোরাই যানবাহন বা ‘বুংগাড়ি’ দেশে প্রবেশ করছে। এই বিশাল অবৈধ বাণিজ্য নির্বিঘ্নে পরিচালনা করার উদ্দেশ্যে গড়ে উঠেছে একটি সুসংগঠিত সিন্ডিকেট, যার মাধ্যমে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার অবৈধ কমিশন লেনদেন হচ্ছে বলে ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি।

​অভিযোগ রয়েছে, সীমান্ত পারাপারের জন্য তথাকথিত ‘লাইন ফি’ হিসেবে প্রতিদিন রাতে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত থানা পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া হয়। এই পুরো প্রক্রিয়ার তদারকি এবং টাকা সংগ্রহের পেছনে জৈন্তাপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সওকত মাসুদ প্রত্যক্ষভাবে জড়িত রয়েছেন বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন। গরু ও মহিষের লাইন চালানের মাধ্যমে সংগৃহীত এই অর্থ তিনি নিয়মিত ওসির নিকট পৌঁছে দেওয়ার কাজটি সমন্বয় করেন বলে দাবি করা হচ্ছে। একই সাথে ভারতীয় নানা ধরনের অবৈধ মালামাল ও চোরাই যানবাহন চোরাচালানের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) গোলাম কিবরিয়ার হাতে। তিনি প্রতিদিন রাতে আনুমানিক ১ থেকে ২ লাখ টাকার অনৈতিক লেনদেন পরিচালনা করেন বলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। থানার ভেতরে এই দুই পুলিশ কর্মকর্তা মূলত ওসির বিশেষ ‘ক্যাশিয়ার’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।

​এই পুরো সিন্ডিকেটের নেপথ্য পৃষ্ঠপোষক হিসেবে জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহাবুবুর রহমান মোল্লার নাম উঠে এসেছে। সীমান্ত এলাকার সচেতন মহলের দাবি, থানা পুলিশের এই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ছত্রছায়ায় প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার পণ্য ভারতের সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ঢুকছে, যার ফলে সরকার বিপুল অংকের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পুলিশের নাম ভাঙিয়ে সীমান্ত এলাকার চিহ্নিত চোরাচালানি ও অপরাধী চক্র বেপরোয়া হয়ে ওঠায় পুরো জৈন্তাপুর উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটছে। এলাকার সাধারণ মানুষ ও সচেতন নাগরিকরা অনতিবিলম্বে এ বিষয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জোরালো দাবি জানিয়েছেন।

০২ আগস্ট ২০২৬

জৈন্তাপুর সীমান্তে চোরাচালানের বিশাল সিন্ডিকেট: ওসি-দারোগাদের বিরুদ্ধে লাখ লাখ টাকার চাঁদাবাজির অভিযোগ

বিস্তারিত কমেন্টে