
স্টাফ রিপোর্টার: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পর্যটন ও সীমান্ত এলাকা বিছনাকান্দি এবং হাদারপাড় বালু মহাল ইজারা নেওয়ার আড়ালে চলছে ব্যাপক পাথর ও বালু লুটপাটের মহোৎসব। স্থানীয় বিএনপি নেতা ও গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শাহ আলম স্বপন এবং গোয়াইনঘাট উপজেলা তাতীদলের নেতা আব্দুল মান্নানের নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে এ অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ইজারার শর্ত, পরিবেশ আইন এবং নির্ধারিত সীমানা উপেক্ষা করে শক্তিশালী ড্রেজার মেশিন বসিয়ে দিন-রাত নির্বিচারে পাথর ও বালু উত্তোলন করা হলেও স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।স্থানীয়দের অভিযোগ, হাদারপাড় বালু মহালের ইজারা নেওয়া হলেও সেই অনুমতির আড়ালে বিছনাকান্দি সীমান্ত এলাকা, মনরতল বাজারসহ ইজারাবহির্ভূত সংরক্ষিত স্থান থেকেও অবাধে পাথর ও বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
প্রতিদিন শত শত ট্রলার এবং একাধিক শক্তিশালী ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে নদীর তলদেশ কেটে পাথর ও বালু উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং পরিবেশের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।অভিযোগ রয়েছে, গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা কয়েকজন সাব-ইন্সপেক্টরকে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ‘ম্যানেজ’ করেই সিন্ডিকেটটি দীর্ঘদিন ধরে নির্বিঘ্নে এ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ফলে স্থানীয়দের একের পর এক অভিযোগ, গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা সত্ত্বেও দৃশ্যমান কোনো অভিযান বা কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শত শত ট্রলার পাথর ও বালু বহন করে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাচ্ছে। নদীর তলদেশ গভীরভাবে খনন করায় নদীর গতিপথ পরিবর্তনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি নদীভাঙন বৃদ্ধি পাওয়ায় আশপাশের বসতবাড়ি, কৃষিজমি এবং ঐতিহ্যবাহী মনরতল বাজার হুমকির মুখে পড়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে পুরো এলাকাই ভয়াবহ পরিবেশগত বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।বিশেষ করে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র বিছনাকান্দির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, স্বচ্ছ পানির প্রবাহ, নদীর জীববৈচিত্র্য এবং সীমান্তঘেঁষা পাহাড়ি পরিবেশ বর্তমানে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। পর্যটকদের আকর্ষণের মূল কেন্দ্র হিসেবে
পরিচিত এই এলাকায় অবৈধ ড্রেজিং চলতে থাকলে বিছনাকান্দির পরিবেশগত ভারসাম্য স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।অভিযোগ উঠেছে, পুরো বিষয়টি সম্পর্কে অবগত থাকা সত্ত্বেও গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারীর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। একইভাবে পরিবেশ অধিদপ্তরেরও কার্যকর তৎপরতা না থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে। পরিবেশ রক্ষায় দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর এমন নীরবতা নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অবৈধ পাথর ও বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, ড্রেজার মেশিন জব্দ, ইজারার শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত এবং পুরো সিন্ডিকেটের কার্যক্রম বন্ধে জরুরি অভিযান পরিচালনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পরিবেশ অধিদপ্তর, সিলেট জেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগে বিছনাকান্দি ও হাদারপাড় এলাকায় অবৈধ উত্তোলন বন্ধের দাবি জানিয়েছেন তারা।তাদের ভাষ্য, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে শুধু বিছনাকান্দির প্রাকৃতিক সৌন্দর্যই নয়, নদী, জীববৈচিত্র্য, কৃষিজমি, বসতবাড়ি এবং আশপাশের জনপদও অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়বে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।এ ব্যপারে জানতে গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ এর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি। একই ব্যপারে জানতে শাহ আলম স্বপনের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি এই প্রতিবেদককে প্রথমে অস্বীকার করলেও পক্ষান্তরে স্বীকার করেন আব্দুল মান্নান ইজারা নিয়েছে| তবে বালু মহালের নীমানার ভিতরেই বালু উত্তোলন হচ্ছে|।