• ৬ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ,

শহীদ রুদ্র সেনকে যথাযথ সম্মান দিতে ব্যর্থ শাবিপ্রবি প্রশাসন: শিক্ষার্থীদের অভিযোগ

Daily Sonali Sylhet
প্রকাশিত জুলাই ৫, ২০২৬
শহীদ রুদ্র সেনকে যথাযথ সম্মান দিতে ব্যর্থ শাবিপ্রবি প্রশাসন: শিক্ষার্থীদের অভিযোগ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড পলিমার সায়েন্স (সিইপি) বিভাগের শিক্ষার্থী রুদ্র সেনের স্মৃতি সংরক্ষণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রায় এক বছর আগে তাঁর নামে ক্যাম্পাসের একটি লেকের নামকরণ করা হলেও বাস্তবে সেই স্বীকৃতি এখন অস্তিত্বহীন হওয়ার পথে।

রুদ্র সেন ছিলেন দিনাজপুর জেলার দিনাজপুর সদর উপজেলার পাহাড়পুর গ্রামের সন্তান, যিনি শাবিপ্রবির সিইপি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত ছিলেন। ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে পুলিশের হামলার শিকার হয়ে আহত হন তিনি, এরপর পানিতে ডুবে তাঁর মৃত্যু ঘটে। সেদিন সন্ধ্যায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন পুলিশ ও ছাত্রলীগের হাত থেকে বাঁচতে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার সময় বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন সুরমা আবাসিক এলাকার একটি খালের পানিতে পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছিল।
জুলাই আন্দোলনের ইতিহাসে রুদ্র সেনের মৃত্যু একটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত, কারণ আন্দোলনের একেবারে সূচনালগ্নেই তিনি প্রাণ হারান। পরবর্তীতে এই আন্দোলনই দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পরিবর্তনের সূচনা করে।

শহীদ রুদ্র সেনের আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ পরের বছর ৩ জুলাই বৃহস্পতিবার রাতে ফুডকোর্টসংলগ্ন নতুন নির্মিত একটি লেক আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন তৎকালীন উপাচার্য এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী। পরদিন শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।
উদ্বোধনের সময় তৎকালীন উপাচার্য বলেছিলেন, তাঁরা এই নতুন লেককে শহীদ রুদ্র সেনের নামে ঘোষণা করছেন এই আশায় যে তাঁর পরিবার কিছুটা সান্ত্বনা খুঁজে পাবে, এবং রুদ্রের আত্মত্যাগের একটি বাস্তব স্মারক হিসেবে লেকটি তাঁর স্মৃতিকে বাঁচিয়ে রাখবে বলে তিনি প্রত্যাশা প্রকাশ করেছিলেন।

কিন্তু শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নামকরণের এই আনুষ্ঠানিকতা ছিল কার্যত লোকদেখানো। রাতের অন্ধকারে নীরবে সম্পন্ন হওয়া এই উদ্বোধনের পর লেকটিতে আজও বসানো হয়নি কোনো নামফলক। ফলে ক্যাম্পাসে নিয়মিত চলাফেরা করা শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই জানেন না যে এই লেকটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে একজন শহীদের নাম ও স্মৃতি।

আরও উদ্বেগজনক তথ্য হলো, বর্তমানে এই লেকটি ভরাট করে সেখানে একটি বাসস্ট্যান্ড নির্মাণের কার্যক্রম চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে ‘শহীদ রুদ্র সেন লেক’-এর অস্তিত্ব ও স্থায়িত্বই এখন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একজন শহীদের নামে উৎসর্গ করা স্থাপনা যেভাবে নীরবে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে, তা নিয়ে ক্যাম্পাসজুড়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক মো. খায়রুল ইসলাম ও প্রক্টরের সঙ্গে ইতিমধ্যে বৈঠক করেছেন শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল। রুদ্র সেনের দেশপ্রেম ও সাহসিকতার গল্প ভবিষ্যৎ শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে এবং তাঁর স্মৃতির স্থায়ী সংরক্ষণে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের দাবি জানান তাঁরা। এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিবাচক আশ্বাস পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। এ প্রসঙ্গে প্রতিনিধি দলের এক সদস্য জানান, প্রশাসনের সাম্প্রতিক ইতিবাচক সাড়ায় তিনি আশাবাদী যে এবার বিষয়টি বাস্তবায়িত হবে। তিনি মনে করেন, বর্তমান প্রশাসন এ ব্যাপারে আন্তরিকভাবে কাজ করবে। অন্য একজন সহপাঠী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই দাবি ঝুলে থাকায় তিনি চান, নিজে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত অবস্থাতেই এর দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখে যেতে। কথার টালবাহানায় আটকে না থেকে বাস্তবে কাজ শুরু হতে দেখাই এখন তাঁর মূল প্রত্যাশা।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, প্রশাসনের আশ্বাসকে তাঁরা স্বাগত জানাচ্ছেন, তবে বিষয়টির বাস্তবায়ন নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখবেন তাঁরা, যাতে আগের মতো আবারও বিষয়টি দীর্ঘসূত্রতায় হারিয়ে না যায়।

যেহেতু ‘শহীদ রুদ্র সেন লেক’-এর অস্তিত্ব ও স্থায়িত্বই বর্তমানে অনিশ্চিত, তাই শিক্ষার্থীরা জোরালোভাবে দাবি জানিয়েছেন, রুদ্র সেনের স্মৃতি সংরক্ষণের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন-বি’র চত্বরে তাঁর নামে একটি স্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হোক। তাঁদের ভাষায়, এবারও যদি প্রশাসন টালবাহানার আশ্রয় নেয়, তাহলে তা হবে একজন শহীদের প্রতি চরম অবমাননা।

০৫ জুলাই ২০২৬

শহীদ রুদ্র সেনকে যথাযথ সম্মান দিতে ব্যর্থ শাবিপ্রবি প্রশাসন: শিক্ষার্থীদের অভিযোগ

বিস্তারিত কমেন্টে