• ৯ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ,

জনপ্রতিনিধিরা পারেননি, ব্যবসায়ীরা পারলেন—বাঁশের সেতুতে ফিরল যোগাযোগ

Daily Sonali Sylhet
প্রকাশিত আগস্ট ৮, ২০২৬
জনপ্রতিনিধিরা পারেননি, ব্যবসায়ীরা পারলেন—বাঁশের সেতুতে ফিরল যোগাযোগ

আবু সাঈদ,শাল্লা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক কেটে খালে পরিণত করায় প্রায় দুই মাস ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন হাজারো পথচারী। দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অযোগ্য হয়ে থাকা সড়কটিতে স্থায়ী সংস্কারের উদ্যোগ না নেওয়ায় ক্ষোভ দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। শেষ পর্যন্ত জনপ্রতিনিধিদের অপেক্ষায় না থেকে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও মোটরসাইকেল সমিতির উদ্যোগে বাঁশ-কাঠের অস্থায়ী সেতু নির্মাণ করে মানুষের চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নদী থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ওই সড়কটি প্রাকৃতিকভাবে ভেঙে যাওয়ার কোনো কারণ ছিল না। কোনো একটি মহল পরিকল্পিতভাবে রাস্তার অংশ কেটে খালের মতো করে দেওয়ায় সড়কটির যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, রোগীসহ প্রতিদিনের যাতায়াতকারী হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন।

অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অবহিত করা হলেও দীর্ঘ দুই মাসেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। স্থানীয় মেম্বার, চেয়ারম্যান কিংবা রাজনৈতিক নেতাদের পক্ষ থেকে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ না আসায় ভুক্তভোগীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে থাকে। এ অবস্থায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে এগিয়ে আসে মেধা বাজার মোটরসাইকেল সমিতি। সমিতির সদস্য মোহাম্মদ রেজওয়ান আহমেদ রাজুর সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং মেধা বাজারের ব্যবসায়ীদের আর্থিক সহযোগিতায় সড়কটির ওপর বাঁশ ও কাঠ দিয়ে একটি অস্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হয়।

সমিতির সদস্য ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা নিজেদের অর্থ ও শ্রম দিয়ে সেতুটি নির্মাণ করায় বর্তমানে ওই পথে আবারও মানুষের চলাচল শুরু হয়েছে। এতে সাময়িকভাবে হলেও দুর্ভোগ থেকে স্বস্তি পেয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয়রা বলেন, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব ছিল জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটির দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা করা। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় সাধারণ মানুষকে নিজেদের উদ্যোগেই সমস্যার সমাধান করতে হয়েছে।

মেধা বাজারের ব্যবসায়ী ও মোটরসাইকেল সমিতির এই উদ্যোগকে প্রশংসনীয় উল্লেখ করে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী বলেন, অস্থায়ী বাঁশ-কাঠের সেতু দিয়ে আপাতত চলাচল সম্ভব হলেও এটি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। তাই দ্রুত সড়কটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্থায়ীভাবে সংস্কারের জন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা। একই সঙ্গে সড়কটি কীভাবে কেটে খালে পরিণত করা হলো এবং এর পেছনে কারা জড়িত—তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

০৮ আগস্ট ২০২৬

জনপ্রতিনিধিরা পারেননি, ব্যবসায়ীরা পারলেন—বাঁশের সেতুতে ফিরল যোগাযোগ

বিস্তারিত কমেন্টে