• ১১ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ,

‘মানুষ হত্যা করাই যেন ঘাতক লাইলীর নেশা’ফের হত্যায় জড়িয়ে পড়লেন

Daily Sonali Sylhet
প্রকাশিত আগস্ট ১০, ২০২৬
‘মানুষ হত্যা করাই যেন ঘাতক লাইলীর নেশা’ফের হত্যায় জড়িয়ে পড়লেন

দেবিদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি: দেবিদ্বারে ফরিদা ইয়াসমিন (৫০) নামে এক বাড়ির মালিককে কুপিয়ে হত্যার পর লাশ খণ্ড করে পলিথিনের মুড়িয়ে বাড়ির পেছনে ফেলে রাখা হয়| রোববার দুপুরে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত লাশের বিভিন্ন অংশের ১১টি প্যাকেট পাওয়া গেলেও মাথা ও পায়ের অংশ পাওয়া যায়নি| এ ঘটনায় অভিযুক্ত নারী ভাড়াটিয়াকে পুলিশে দিয়েছে জনতা| আটক লাইলী আক্তার দেবিদ্বারের চাপানগর গ্রামের আবুল কালাম আজাদের স্ত্রী| এদিকে আসামিদের গ্রেফতার ও দ্রুত বিচার দাবিতে রোববার দেবিদ্বারে বিক্ষোভ হয়েছে|

জানা গেছে, ২০২১ সালে আপত্তিকর অবস্থায় দেখা ফেলায় পাঁচ বছরের শিশু ফাহিমাকে গলা কেটে হত্যা করে খালে পুঁতে রাখে তার বাবা আমির হোসেন ও পরকীয়া প্রেমিকা লাইলী আক্তার| ওই ঘটনায় প্রায় সাড়ে চার বছর কারাভোগ শেষে কয়েক মাস আগে জামিনে ছাড়া পান লাইলী আক্তারসহ সব আসামি| ফের হত্যায় জড়িয়ে পড়লেন লাইলী| এবার বাড়ির মালিককে হত্যার পর লাশ পলিথিনে মুড়িয়ে রাখা হয়েছে| পুলিশ অভিযুক্ত লাইলীকে গ্রেফতার করলেও বাকি আসামিরা পলাতক রয়েছে|

সরেজমিন জানা যায়, নিহত ফরিদা ইয়াসমিন দেবিদ্বার পৌরসভার ফতেহাবাদ গ্রামের মো. মফিজুল ইসলামের স্ত্রী| মফিজুল ইসলাম চট্টগ্রামে জাহাজে চাকরি করেন| ফরিদা দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে দেবিদ্বারের ছোট আলমপুর পূর্বাশা আবাসিক এলাকার ভুঁইয়া হাউজে সন্তানদের নিয়ে বসবাস করছেন| ছোট মেয়ে মরিয়ম আক্তার থাকতেন মায়ের সঙ্গে| ১০ বছর আগে একমাত্র ছেলে ইব্রাহীম খলিল সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন| ছোট মেয়ে মীর বাড়িতে যাওয়ায় শুক্রবার ফরিদা বাসায় একা ছিলেন| ঘটনার মাত্র ১২ দিন আগে ফরিদা ইয়াসমিনের ঘর ভাড়া নেন লাইলী| এরপর ফরিদার সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন তিনি এবং ঘরের কোথায় স্বর্ণালংকার, টাকা পয়সা আছে তা কৌশলে সন্ধান করতে থাকেন| শুক্রবার রাতে লাইলী তার  স্বামী আবুল কালাম এবং সহযোগী রবিউল ও সোহেলকে নিয়ে ফরিদা ইয়াসমিনকে হত্যা করে খণ্ডিত লাশ পলিথিনে মুড়িয়ে রাখে| পরে বিক্ষুব্ধ জনতা লাইলীকে খুঁটিতে হাত-পা বেঁধে গণপিটুনি দেয়| শনিবার রাতে নিহতের মী মফিজুল ইসলামসহ চারজনকে আসামি করে থানায় মামলা করেছেন|

নিহতের ছোট মেয়ে মরিয়ম আক্তার বলেন, মাকে হত্যার পর সাত লাখ টাকা ও প্রায় ১৫ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে যায় ঘাতকরা| দেবিদ্বার-ব্রাহ্মণপাড়া (সার্কেল) সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. শাহীন বলেন, লাইলী আক্তার ২০২১ সালে শিশু ফাহিমা হত্যায় জড়িত ছিল| কারাগার থেকে ছাড়া পেয়ে প্রায় ১২ দিন আগে এ বাসায় ভাড়াটিয়া হিসাবে ওঠেন তিনি| ধারণা করা হচ্ছে, স্বর্ণালংকারের লোভে তাকে হত্যা করা হয়েছে|

১০ আগস্ট ২০২৬

‘মানুষ হত্যা করাই যেন ঘাতক লাইলীর নেশা’ফের হত্যায় জড়িয়ে পড়লেন

বিস্তারিত কমেন্টে