
দিরাই প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার করিমপুর ইউনিয়নের সাকিতপুর গ্রামে বাঁশ কাটাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরবর্তীতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহত যুবকের ওপর প্রতিপক্ষ ফের হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ব্যাপক ভাঙচুর ও সরকারি চিকিৎসা সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে জানা যায়, সাকিতপুর গ্রামের মোক্তার চৌধুরীর বাঁশ কাটতে যান জীবু চৌধুরী নামে এক যুবক। এতে বাধা দেন একই গ্রামের জাহাঙ্গীর। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে সংঘর্ষ বেধে যায়। এতে জীবু চৌধুরী গুরুতর আহত হলে স্বজনরা তাঁকে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
অভিযোগ উঠেছে, খবর পেয়ে দিরাই সদরে ব্যবসাওড়ানো জাহাঙ্গীরের ভাই আনহার সরদার সঙ্গীদের নিয়ে হাসপাতালে প্রবেশ করেন। তাঁরা চিকিৎসাধীন জীবু চৌধুরীর ওপর জরুরি বিভাগের ভেতরেই পুনরায় আক্রমণ চালান। আক্রমণ চলাকালে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা সরঞ্জাম ভাঙচুর করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হামলায় জরুরি বিভাগের একটি ইসিজি (ECG) মেশিন, পানির কল, ওজন পরিমাপক যন্ত্র এবং চিকিৎসা সহায়তার জন্য ব্যবহৃত একাধিক বিছানা ও সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনার বিষয়ে দিরাই ৫০ শয্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ড. প্রশান্ত তালুকদার জানান, “সাকিতপুর গ্রামের মারামারির ঘটনায় আহত এক রোগী জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় প্রতিপক্ষের লোকেরা অতর্কিত হামলা চালায়।
এতে হাসপাতালের ইসিজি মেশিনসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঊর্ধ্বতন স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সাথে আলোচনা করে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত দিরাই থানা পুলিশ হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। জরুরি বিভাগে নতুন করে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। দিরাই থানার পুলিশ জানায়, বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার প্রক্রিয়া চলছে।