
বানিয়াচং (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। পূজাকে কেন্দ্র করে উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি আর ভক্তদের প্রার্থনায় মুখর হয়ে উঠেছে মণ্ডপগুলো।
সরেজমিনে বানিয়াচংয়ের বুড়া শিবাড়ি,রামকৃষ্ণ মিশন,মাধব দেবের বাড়ি,দেবু মাষ্টারের বাড়ি পূজামন্ডপসহ বেশ কয়েকটি পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই বিভিন্ন বয়সী পূজারি ও দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। নতুন পোশাকে সজ্জিত হয়ে নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ সব বয়সী মানুষ পূজামণ্ডপে আসছেন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে এক মণ্ডপ থেকে অন্য মণ্ডপে ঘুরে দেবী দুর্গার আরাধনা করছেন ভক্তরা। পাশাপাশি অনেকে প্রতিমা দর্শন ও উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিচ্ছেন স্বজনদের সঙ্গে।
আজ নবমী তিথিতে পূজামণ্ডপগুলোতে ভক্তদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। উৎসবের আনন্দে মেতে উঠেছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। পূজাকে ঘিরে পরিবার-পরিজন ও পরিচিতজনদের সঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটাচ্ছেন তারা। তোলছেন সেলফিও ।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করছেন সরকারি দলের সংসদ সদস্য ও জেলা পরিষদ প্রশাসক। তারা নিজ নিজ বলয়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন পূজামণ্ডপে গিয়ে পূজারিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন এবং পূজার সার্বিক পরিবেশ ও আয়োজনের খোঁজখবর নিচ্ছেন।
পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনেও দেখা যাচ্ছে তৎপরতা। দুই নেতার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীরা বিভিন্ন মণ্ডপে গিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করছেন। এ সময় পূজারিদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে মতবিনিময় এবং উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়ার চিত্রও দেখা যাচ্ছে।
ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে নেতাদের এমন উপস্থিতি একদিকে যেমন পূজারিদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনেও তৈরি করছে আলোচনা। তবে পরিদর্শন ঘিরে সাধারণ পূজারি ও স্থানীয়দের প্রত্যাশা—দুর্গোৎসব যেন শান্তিপূর্ণ, নির্বিঘ্ন ও আনন্দঘন পরিবেশে সম্পন্ন হয় এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় হয়।
পূজামণ্ডপে আসা কয়েকজন পূজারি জানান, দুর্গাপূজা তাদের কাছে শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি আনন্দ, সম্প্রীতি ও মিলনের উৎসবও। সারা বছর এই উৎসবের জন্য অপেক্ষা করেন তারা। নতুন পোশাক পরে পরিবারের সবাইকে নিয়ে মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে পূজা দেওয়া এবং প্রতিমা দর্শনের মধ্যে রয়েছে অন্যরকম আনন্দ। তারা উৎসবের বাকি দিনগুলোও শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে কাটানোর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
আরেক পূজারি বলেন, “দুর্গাপূজা আমাদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। এ সময় পরিবার-পরিজন ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারি। মণ্ডপে মণ্ডপে মানুষের উপস্থিতি দেখে খুব ভালো লাগছে। আমরা চাই, সবার সহযোগিতায় উৎসবটি সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হোক।”
এদিকে, আগামীকাল (বুধবার) বিজয়া দশমী তিথির মধ্য দিয়ে শেষ হবে শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা। বিজয়া দশমীতে দেবী দুর্গার বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাঁচ দিনব্যাপী এই মহোৎসব। উৎসবের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আনন্দ, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের পরিবেশ বজায় থাকবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয় পূজারি ও দর্শনার্থীদের।