• ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ,

ফলোআপ দক্ষিণ সুরমায় আপসের পরও গাড়ি ছাড়াতে ওসির নাম ভাঙ্গিয়ে এসআই মাইনুলের ৩৩ হাজার টাকা বখরা আদায় নীরব ভূমিকায় প্রশাসন

Daily Sonali Sylhet
প্রকাশিত অক্টোবর ২২, ২০২৬
ফলোআপ দক্ষিণ সুরমায় আপসের পরও গাড়ি ছাড়াতে ওসির নাম ভাঙ্গিয়ে এসআই মাইনুলের ৩৩ হাজার টাকা বখরা আদায় নীরব ভূমিকায় প্রশাসন

দক্ষিণ সুরমা প্রতিনিধি: দক্ষিণ সুরমায় চলছে এসআই মাইনুলের বখরাবাজির রাজত্ব। তাহার বেপরোয়া বখরাবাণিজ্যে ক্ষতিগ্রস্তরা আরো বেশী অসহায়। তিনি বর্তমান ওসির নাম ভাঙ্গিয়ে বখরার রাজত্ব কায়েম করছেন। বখরাবাজির অপকর্ম নিয়ে বিভিন্ন অনলাইন ও প্রিন্ট মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশিত হলেও টনক নড়েনি তাহার। বরং উল্টো তিনি ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বলেন পারলে কিছু করেন? বিষয়টি নিয়ে দক্ষিণের উর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলে যা হবার হয়েছে ঘাটাঘাটি করার দরকার নেই।

অনেক নিরীহ মানুষ বলেন বিগত সরকারই ভালো ছিলো এই সরকার আসার পর পুলিশের বখরাবাজি বেড়েগেছে। এদিকে বারখলায় বাড়ী দখল করতে এক পরিবারের উপর হামলার ঘটনায় মামলা রেকর্ড না হওয়ায় ওসির উপর বিরক্ত ভূক্তভোগী। তিনি দাবী করেন হামলাকারীরা থানার ভিতরে হত্যার হুমকি দিলে তদন্ত কর্মকর্তার কথায় থানায় জিডি করার এক সপ্তাহের মধ্যে বিবাদীরা হামলা করেছে, থানায় জানালে তারা বলে ৯৯৯ এ ফোন করতে বলে, এরপর বাদী জরুরী সেবা ৯৯৯ এ ফোন করলে পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। সেই অভিযোগটি মাসের কাছাকাছি হলেও এ রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত তা রেকর্ড হয়নি। অভিযোগের বাদী সুহেল হতাশা ব্যক্ত করে বলেন পুলিশ বড় অংকের টাকায় ম্যানেজ হয়ে অভিযোগটি রেকর্ড করছেনা।

এর আগেও দৈনিক সোনালী সিলেটে দক্ষিণ সুরমা থানার এসআই মাইনুল এর বিরুদ্ধে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়।সংবাদটি দর্শকদের উদ্দেশ্যে হুবহু দেওয়া হলো:-“আপসের পরও গাড়ি ছাড়াতে ওসির নাম ভাঙ্গিয়ে এসআই মাইনুলের বখরাবাজি“

দুর্ঘটনায় আহত যুবকের পরিবারের সঙ্গে গাড়ির মালিকের সামাজিকভাবে আপস-মীমাংসা হয়েছে। বাদীও থানায় লিখিতভাবে অভিযোগ প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন। এরপরও দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি ছাড়িয়ে নিতে গুনতে হয়েছে ৩৩ হাজার টাকা। এমনই অভিযোগ উঠেছে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানার এক উপপরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে।

অভিযোগের তির মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মাইনুলের দিকে। অভিযোগ অনুযায়ী, গাড়ি ছাড়িয়ে নিতে প্রথমে ১ লক্ষ টাকা দাবি করেন তিনি। পরে আলোচনা করে ৩০ হাজার টাকায় সমঝোতা হয়। কিন্তু বিষয়টি একজন সাংবাদিককে জানানোর পর গাড়ির মালিককে নতুন করে হয়রানির মুখে পড়তে হয়। শেষ পর্যন্ত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)’র সঙ্গে আলোচনার কথা বলে ৩৩ হাজার টাকার বিনিময়ে গাড়িটি হস্তান্তর করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। ঘটনার সূত্রপাত গত ২৭ সেপ্টেম্বর। ওই দিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের দক্ষিণ সুরমার লালাবাজারের নাজিরগাঁও রাস্তার মোড়ে নোহা মাইক্রোবাসের চাপায় মো. সাব্বির আহমদ (২১) নামে এক যুবক গুরুতর আহত হন। গাড়িটি ঢাকা থেকে সিলেটের দিকে যাচ্ছিল। দুর্ঘটনার পর গাড়িটির নম্বর ঢাকা মেট্রো-চ-১৯-৭৬৪৪ পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় আহত সাব্বিরের বড় ভাই মো. কাউছার আহমদ দক্ষিণ সুরমা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহে জানা যায়, গত ১০ অক্টোবর ২০২৬ইং শনিবার দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ির মালিক আহত সাব্বিরের বাড়িতে গিয়ে সামাজিকভাবে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আপস-মীমাংসা করেন। এরপর একই দিন রাতে তিনি দক্ষিণ সুরমা থানায় গিয়ে অভিযোগ প্রত্যাহারের আবেদন করেন। গাড়ির মালিকের অভিযোগ, থানায় গিয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মাইনুলের সঙ্গে গাড়ি ছাড়ানোর বিষয়ে কথা বললে তিনি ১ লক্ষ টাকা দাবি করেন। পরে অভিযোগকারী বাদীর সামনেই আলোচনা করে ৩০ হাজার টাকায় সমঝোতা হয়। কিন্তু এ পর্যায়ে ঘটনাটি নতুন মোড় নেয়।

বিষয়টি জানার পর একজন সাংবাদিক তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মাইনুলের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তবে তিনি ফোন রিসিভ করেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে সাংবাদিক তাঁর হোয়াটসঅ্যাপে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়ে নির্ধারিত ৩০ হাজার টাকা থেকে আরও ৫ হাজার টাকা কম রাখার অনুরোধ জানান। গাড়ির মালিকের অভিযোগ, এরপর তিনি গাড়ি নিতে থানায় গেলে তাঁকে বলা হয়, সাংবাদিককে বিষয়টি কেন জানানো হয়েছে, এখন আর গাড়ি দেওয়া যাবে না। এতে গাড়িটি ছাড়িয়ে নেওয়া নিয়ে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে মামলার বাদীসহ সংশ্লিষ্টরা অনুরোধ করলে ওসির সঙ্গে আলোচনা করে ৩৩ হাজার টাকার বিনিময়ে গাড়িটি হস্তান্তর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে জানতে এসআই মাইনুলের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তাহার মোবাইল ব্যস্ত পাওয়া যায়। পরে আবারও ক্ষুদেবার্তা পাঠানো হয়। ক্ষুদেবার্তা হুবহু দেওয়া হলো:- আমি সাংবাদিক হাসান জুলহাস, গত ১০ তারিখে সড়ক দূঘটনার একটি গাড়ী হেফাজতে নেওয়া হয়েছ, মামলার বাদী কাওছার, আপনার সাথে তাদের কন্টাক্ট ছিলো ৩০ হাজার, আমি আপনার ওয়াটসআপে ক্ষুদে বার্তার মাধ্যমে আপনাকে ৫ হাজার টাকা কম রাখতে অনুরোধ করেছিলাম কিন্তু আপনি আরো ৩ হাজার টাকা বেশী রেখেছেন। এই টাকা সরকারের কোন খাতে জমা হয়েছে সেই বিষয়ে জনগনকে জানাতে চাই। আপনি সরকারী চাকুরী করেন অথচ আপনার মোবাইল ২৪ ঘন্টা বিজি লাগিয়ে রাখেন, তাই এবিষয়ে আপনার একটি বক্তব্য দরকার আমি নিউজ করবো। ৩০ মিনিটের মধ্যে জানাবেন।

এ বিষয়ে উপপুলিশ কমিশনার দক্ষিণের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন বাদী-বিবাদী যেহেতু আপুষ করেছে আমাদের কিছু করার নেই। টাকা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন বিবাদী এবং তদন্ত কর্মকর্তা যেহেতু সমজোতা করেছেন এটা নিয়ে আর কথা বলার দরকার নেই। এখন জনমনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—দুর্ঘটনার পর গাড়ি আটক রাখা এবং তা ছাড়ার ক্ষেত্রে কী ধরনের আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে? অভিযোগ প্রত্যাহারের আবেদন করার পরও গাড়ি ছাড়াতে অর্থ দাবির ভিত্তি কী? তদন্ত কর্মকর্তা যদি কোনো সরকারি ফি বা জরিমানার কথা বলে থাকেন, তাহলে সেই অর্থের সরকারি বিধান কী এবং তার বিপরীতে কোনো চালান বা রসিদ দেওয়া হয়েছে কি না?

আর ৩০ হাজার টাকায় সমঝোতার পর সাংবাদিকের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি জানাজানি হলে গাড়ি হস্তান্তরে আপত্তি ওঠার কারণ কী? আইন অনুযায়ী, পুলিশের হেফাজতে থাকা কোনো যানবাহন আদালতের আদেশ, তদন্তের প্রয়োজনীয়তা এবং প্রচলিত বিধিবিধান অনুসরণ করেই হস্তান্তর করার কথা। এ ক্ষেত্রে কোনো অর্থ আদায় করা হলে তার আইনগত ভিত্তি ও সরকারি রসিদ থাকা জরুরি। একটি দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও গাড়ির মালিকের মধ্যে আপস-মীমাংসা হওয়া স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু সেই আপসের পরও গাড়ি ছাড়াতে অর্থ লেনদেনের এমন অভিযোগ পুলিশের দায়িত্বশীলতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

২২ অক্টোবর ২০২৬

ফলোআপ দক্ষিণ সুরমায় আপসের পরও গাড়ি ছাড়াতে ওসির নাম ভাঙ্গিয়ে এসআই মাইনুলের ৩৩ হাজার টাকা বখরা আদায় নীরব ভূমিকায় প্রশাসন

বিস্তারিত কমেন্টে