• ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ,

নগরীর জালালাবাদে চাঁদাবাজির অভিযোগে ফরিদ মিয়া আটক

Daily Sonali Sylhet
প্রকাশিত অক্টোবর ২২, ২০২৬
নগরীর জালালাবাদে চাঁদাবাজির অভিযোগে ফরিদ মিয়া আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক: জালালাবাদে আইনজীবীর জমি ভরাট ও ঘর নির্মাণে বাধা, যাতায়াতের রাস্তা বন্ধের অভিযোগ, ১০ লাখ টাকা চাঁদাবাজীর অভিযোগে ফরিদ মিয়া নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে জালালাবাদ থানা পুলিশ, ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার বিকালে তাকে আটক করা হয়। এর আগে জালালাবাদ থানায় মুছা মিয়া নামের এক আইনজীবী ফরিদ মিয়াসহ ৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ৮/১০ জনকে বিবাদী করে জালালাবাদ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগটির তদন্ত শেষে আমলে নিয়ে মামলা রেকর্ড করা হয়। মামলা নং-১৯/ ২৬ইং। ঐ চাঁদাবাজির মামলায় ফরিদ মিয়া ১ নং আসামী।

উল্লেখ্য এর আগে সিলেটের জালালাবাদ থানাধীন মইয়ারচর নোয়াপাড়া এলাকায় নিজের ক্রয়কৃত জমিতে মাটি ভরাট ও ঘর নির্মাণ করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েছেন মোহাম্মদ মুছা মিয়া নামে এক আইনজীবী। এ সময় তাঁর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং দাবিকৃত টাকা না দেওয়ায় জমি থেকে এক শতক ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় চার ব্যক্তিসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে জমিতে যাতায়াতের পথে পাকা দেয়াল নির্মাণ করে চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগও করেছেন তিনি।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আইনজীবী মোহাম্মদ মুছা মিয়া জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে অভিযুক্তরা হলেন—মইয়ারচর নোয়াপাড়া এলাকার মৃত তোতা মিয়ার ছেলে ফরিদ মিয়া (৪৫), শরিফ মিয়া (৪০), তাজ উদ্দিন (৪৩) ও নাজিম উদ্দিন (৩৫)। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আইনজীবী মোহাম্মদ মুছা মিয়া আব্দুল রব কাঞ্চনের কাছ থেকে মইয়ারচর মৌজায় ১১ শতক ৪১ পয়েন্ট জমি ক্রয় করেন। ২০১৮ সালের ১৮ মার্চ ২৫৬৭/১৮ নম্বর সাফ-কবলা দলিলমূলে নিজের ও স্ত্রীর নামে জমিটি রেজিস্ট্রি করেন। পরবর্তী সময়ে নামজারি ও খাজনা পরিশোধ করে জমিটি ভোগদখল করে আসছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন তিনি।

অভিযোগে বলা হয়, প্রায় দুই মাস আগে ওই জমিতে মাটি ভরাট ও ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করতে গেলে অভিযুক্তরা বাধা দেন। এ বিষয়ে কারণ জানতে চাইলে কাজ করতে হলে তাঁদের ‘খুশি’ করতে হবে বলে জানানো হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্ত ফরিদ মিয়া ১০ লাখ টাকা চাঁদা অথবা জমি থেকে এক শতক ছেড়ে দেওয়ার দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন মুছা মিয়া। অন্যথায় যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া এবং জমিতে মাটি ভরাট ও ঘর নির্মাণ করতে না দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ নিয়ে স্থানীয় মুরব্বি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে একাধিকবার সালিশের চেষ্টা করা হলেও অভিযুক্তদের অসহযোগিতায় বিষয়টির সমাধান হয়নি বলে দাবি করেন অভিযোগকারী।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, জমিতে মাটি ভরাটের জন্য স্থানীয় রুহেল মিয়াকে ৫০ হাজার টাকার চেক দেন তিনি। গত ১১ অক্টোবর পূবালী ব্যাংক পিএলসি, টুকের বাজার শাখা থেকে ওই টাকা উত্তোলন করা হয়। এরপর ১৪ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে জমিতে মাটি ভরাট ও ঘর নির্মাণের জন্য গেলে অভিযুক্তরা তাঁকে ও নিয়োজিত শ্রমিকদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে কাজে বাধা দেন। এ সময় দাবিকৃত টাকা অথবা এক শতক জমি না দিলে কোনো কাজ করতে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

সর্বশেষ গত ১৯ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে পরদিন ভোরের মধ্যে তাঁর অনুপস্থিতির সুযোগে ক্রয়কৃত জমিতে যাতায়াতের পথে পাকা দেয়াল নির্মাণ করে চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন আইনজীবী মুছা মিয়া। তিনি আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থেকে অন্যের সম্পত্তি দখল ও চাঁদা আদায়ের সঙ্গে জড়িত। জমিতে কাজ করতে গেলে যেকোনো সময় প্রাণঘাতী হামলার আশঙ্কা রয়েছে বলেও তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেছেন।

এ অবস্থায় নিজের ক্রয়কৃত জমিতে স্বাভাবিকভাবে যাতায়াত, মাটি ভরাট ও ঘর নির্মাণের সুযোগ নিশ্চিত করা এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জালালাবাদ থানার পুলিশের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।

২২ অক্টোবর ২০২৬

নগরীর জালালাবাদে চাঁদাবাজির অভিযোগে ফরিদ মিয়া আটক

বিস্তারিত কমেন্টে