
নাবেল আহমদ বিয়ানীবাজার: সিলেটের বিয়ানীবাজার কুশিয়ারা নদীতে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীগর্ভে একের পর এক বিলীন হচ্ছে দেউলগ্রাম,গোবিন্দশ্রী,আঙ্গুরা মোহাম্মদপুর,উত্তর আকাখাজানার গ্রামীণ সড়ক, বসতবাড়ি ও ফসলি জমি। এতে চরম আতঙ্কে রয়েছেন নদীপাড়ের হাজারো মানুষ। এলাকাগুলো চিহ্নিত করে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন বিয়ানীবাজার উপজেলার এসব গ্রামবাসী। দেউলগ্রামের বাসিন্দা তাজুল ইসলাম বলেন, নদীপাড়ে বসবাস করায় ভাঙনের অভিজ্ঞতা তাদের দীর্ঘদিনের। প্রায় প্রতিদিনই নদীপাড়ের কোন না কোন অংশে ভাঙন দেখা দিচ্ছে। তবে গত সোমবারের ভাঙন ছিল অস্বাভাবিক রকমের তীব্র। অল্প সময়ের মধ্যে গ্রামের চলাচলের রাস্তার বড় অংশ নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্বাভাবিক চলাচলেও নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। উত্তর আকাখাজনা গ্রামের রাজু আহমদ এলাকার বাসিন্দা বলেন, নদীভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে গ্রামের অনেক মানুষ বসতভিটা হারিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়বেন।
বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিবা মজুমদার বলেন, শুষ্ক মৌসুমে কুশিয়ারা নদীতে ভাঙনের প্রবণতা দেখা দেয়। তিনি দেউলগ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতে বলেছেন। পাশাপাশি সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাঁরা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভাঙন প্রতিরোধে অস্থায়ী ও স্থায়ী সমাধানের বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবেন বলে জানিয়েছেন। এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেট বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সানাউল কাদের খান জানান, ‘ইউএনও বিয়ানীবাজারের মাধ্যমে আমরা বিষয়টি জেনেছি। আমাদের তাৎক্ষনিক বরাদ্ধের স্লট শেষ হওয়ায় আমরা এই মুহূর্তে কোন কিছু করতে পারছি না। তবে বিষয়টা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ‘তিনি বলেন, ‘দ্রুত যাতে একটি বরাদ্ধ এনে কুশিয়ারা নদীর ওই ভাঙনকবলিত এলাকাকে বাঁচানো যায়, আমরা সেই চেষ্টা করছি। আশা করছি, বরাদ্ধ আসলেই শীঘ্রই এই বিষয়টার প্রতিকার আসবে।