
শাল্লা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় কমিউনিটি ভিত্তিক দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, প্রকল্প অবহিতকরণ ও অংশীজনের ভূমিকা শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ জুন ২০২৬) উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। আয়োজনে- সিইএমআরসিবি, রিভার প্রকল্প, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), এপটিসা ও ব্র্যাক।
শাল্লা উপজেলা প্রকৌশলী আরিফ উল্লাহ খাঁনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিয়াস চন্দ্র দাস। এতে প্রধান অতিথি ও আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) সায়ীদ মোহাম্মদ, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দেবব্রত আইস মজুমদার, শাল্লা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আউয়াল, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নগেন্দ্র চন্দ্র সরকার, শাল্লা থানার এসআই শাহজাহান মিয়া এবং রিভার প্রকল্পের প্রতিনিধি মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী, শ্যামলেন্দু দে ও আব্দুর রাজ্জাকসহ উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা বৃন্দ। প্রশিক্ষণ কর্মশালায় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, কমিউনিটি অংশগ্রহণ, প্রকল্প বাস্তবায়নে অংশীজনের ভূমিকা এবং স্থানীয় জনগণের সম্পৃক্ততা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
এ সময় বক্তব্যে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ প্রতাপপুরে প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন আশ্রয়ণ প্রকল্পের স্থান নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, প্রতাপপুরে একটি আশ্রয়ণ প্রকল্প নির্মাণ করা হচ্ছে, কিন্তু এ বিষয়ে স্থানীয় জনগণকে যথাযথভাবে অবহিত করা হয়নি। খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি, প্রকল্পটি কালনী নদী থেকে মাত্র ১০০ মিটার পশ্চিমে নির্মাণ করা হচ্ছে। অথচ প্রতি বছর ওই এলাকায় ২০ থেকে ৩০ মিটার নদীভাঙন ঘটে। ভবন নির্মাণের আগেই যদি নদীভাঙনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে এর দায়ভার কে নেবে?”
তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এখনও সময় আছে। প্রকল্পের স্থান পুনর্বিবেচনা করে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া উচিত। অন্যথায় ভবিষ্যতে নদীভাঙনের ঝুঁকিতে প্রকল্পটি পড়তে পারে। প্রশিক্ষণ কর্মশালায় বক্তারা দুর্যোগ সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ, জনগণের মতামতের গুরুত্ব এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।