
নিজস্ব প্রতিবেদক: লন্ডনে স্ত্রী ও দুই সন্তান রেখে গোপনে বাংলাদেশে এসে দ্বিতীয় বিয়ের প্রস্তুতি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী শাহ আজিজ বাদশাহর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তার প্রথম স্ত্রী সাহানা বেগম আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা, আইন সহায়তা কেন্দ্র (আসক)-এর কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে জরুরি আইনি সহায়তা চেয়েছেন। ঘটনাটি ঘিরে সিলেটের ওসমানীনগর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে সাহানা বেগম উল্লেখ করেন, ২০১৬ সালের ২৫ অক্টোবর ইসলামী শরিয়াহ ও যুক্তরাজ্যের প্রচলিত আইন অনুযায়ী শাহ আজিজ বাদশাহর সঙ্গে তার বিবাহ সম্পন্ন হয়। তাদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বড় সন্তান অটিজমে আক্রান্ত। তিনি দাবি করেন, বিয়ের পর প্রথম দিকে সংসার স্বাভাবিক থাকলেও পরবর্তীতে স্বামীর আচরণ পরিবর্তিত হয়। তাকে চাকরি ছেড়ে দিতে চাপ দেওয়া হয় এবং অস্বীকৃতি জানালে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়। এছাড়া স্বামী সংসারের দায়িত্ব পালনে অবহেলা করেছেন এবং তার কাছ থেকে অর্থ নিয়ে নিজ পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতা করেছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
সাহানা বেগম আরও অভিযোগ করেন, সম্প্রতি তার স্বামী অন্য এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। গত ২৮ জুন তার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর তিনি জানতে পারেন, শাহ আজিজ বাদশাহ বাংলাদেশে এসে পরিবারের সহযোগিতায় দ্বিতীয় বিয়ের আয়োজন করছেন। অভিযোগে বলা হয়, শুক্রবার (১০ জুলাই) রাতে সিলেটের গোয়ালাবাজারের একটি রেস্টুরেন্টে জগন্নাথপুরের এক তরুণীর সঙ্গে তার বিয়ের আয়োজন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে শাহ আজিজ বাদশাহ বলেন, তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করতে যাচ্ছেন। তবে তার দাবি, তিনি যুক্তরাজ্যে থাকা স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন। তিনি স্বীকার করেন, প্রথম স্ত্রীর দেনমোহর ও সন্তানদের ভরণপোষণ এখনো পরিশোধ করা হয়নি। তবে তিনি সেগুলো পরিশোধ করতে চান এবং যুক্তরাজ্যে থাকা নিজের বাড়িটি স্ত্রী ও সন্তানদের দিয়ে দেওয়ার ইচ্ছার কথাও জানান।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ইমাম বলেন, তিনি দ্বিতীয় বিয়ের দাওয়াত পেয়েছেন। তবে প্রথম স্ত্রীকে তালাক দেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। স্থানীয় বাসিন্দা কামরুল ইসলাম বলেন, প্রথম স্ত্রীকে আইনগতভাবে তালাক না দিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করা হলে তা অন্যায় হবে। বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। অন্যদিকে, শাহ আজিজ বাদশাহর মামা মোহাম্মদ আলী দাবি করেন, তার ভাগনা প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন এবং এ-সংক্রান্ত কাগজপত্র তার কাছে রয়েছে।
এদিকে অভিযোগের প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা, আইন সহায়তা কেন্দ্র (আসক)-এর একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলেও, প্রকৃত ঘটনা তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।