• ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ,

রাজনৈতিক পালাবদলেও কমেনি জালালের দাপট,জৈন্তাপুর সীমান্তে চোরাচালানের অভিযোগ

Daily Sonali Sylhet
প্রকাশিত আগস্ট ১২, ২০২৬
রাজনৈতিক পালাবদলেও কমেনি জালালের দাপট,জৈন্তাপুর সীমান্তে চোরাচালানের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার: সিলেটের জৈন্তাপুর সীমান্তে রাজনৈতিক প্রভাব ও সীমান্তকেন্দ্রিক যোগাযোগকে কাজে লাগিয়ে অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে পরিচিত জালাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঘিরে হামলা ও সহিংসতার ঘটনায় একাধিক মামলায় তার নাম রয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। তবে মামলা থাকার পরও তিনি প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগের গুরুতর দিক হলো, উপজেলার ২ নম্বর জৈন্তাপুর ইউনিয়নের মোকামবাড়ি সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় একটি রিসোর্টকে কেন্দ্র করে আত্মগোপনে থাকা বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিকে সীমান্ত পারাপারে সহায়তা এবং চোরাচালানের একটি নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠার অভিযোগ। স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের দাবি, এ নেটওয়ার্কের অন্যতম নিয়ন্ত্রক হিসেবে জালাল উদ্দিনের নাম আলোচনায় রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোকামবাড়ি সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় জালাল উদ্দিনের বাড়ি। বাড়ির কাছেই রয়েছে একটি রিসোর্ট, যা তার ভাতিজা পরিচালনা করেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে রিসোর্টটিতে পর্যটকদের পাশাপাশি অপরিচিত ব্যক্তিদের যাতায়াতও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তাদের দাবি, বিভিন্ন মামলার আসামি ও আত্মগোপনে থাকা রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থান এবং পরবর্তী সময়ে সীমান্ত পারাপারের ক্ষেত্রে জায়গাটি ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, সীমান্ত এলাকার স্থানীয় পরিচিতি ও প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে একটি চক্র অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন ব্যক্তিকে সীমান্তের ওপারে পাঠানোর ব্যবস্থা করে থাকে। একই সঙ্গে ভারতীয় পণ্যসহ বিভিন্ন অবৈধ পণ্য চোরাচালানের সঙ্গেও জালাল উদ্দিনের প্রভাব রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, সীমান্তকেন্দ্রিক অবৈধ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অর্জিত অর্থের একটি অংশ স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাব ধরে রাখতে ব্যবহৃত হয়। যদিও এসব অভিযোগের পক্ষে প্রকাশ্য কোনো নথি বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রগুলোর দাবি, জালাল উদ্দিন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন খানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলীর ঘনিষ্ঠজন হিসেবেও এলাকায় তার পরিচিতি রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।

তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে তিনি সীমান্ত এলাকায় নিজের প্রভাব ধরে রেখেছেন। ৫ আগস্টের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ব্যাপক পরিবর্তন এলেও সীমান্ত এলাকায় তার প্রভাব পুরোপুরি কমেনি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। স্থানীয়দের প্রশ্ন, বিভিন্ন মামলায় আসামি হওয়ার দাবি থাকা সত্ত্বেও জালাল উদ্দিন কীভাবে প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন এবং সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় রয়েছেন?

স্থানীয় বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, প্রশাসন ও প্রভাবশালী মহলের একটি অংশকে ম্যানেজ করেই তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজের প্রভাব বজায় রেখেছেন। তবে এ অভিযোগেরও স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সীমান্তবাসীর আশঙ্কা, অবৈধ পারাপার ও চোরাচালানের অভিযোগের বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে সীমান্তকেন্দ্রিক অপরাধ আরও বিস্তৃত হতে পারে। একই সঙ্গে মানবপাচার ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে তাদের।

স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহল জালাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি মোকামবাড়ি সীমান্তসংলগ্ন রিসোর্টটির কার্যক্রম, সেখানে কারা যাতায়াত করেন এবং সীমান্ত পারাপারে প্রতিষ্ঠানটির কোনো ভূমিকা রয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। তাদের দাবি, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সীমান্তকেন্দ্রিক যেকোনো অবৈধ সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে হবে।

এদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঘিরে হামলা ও সহিংসতার ঘটনায় জালাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে দাবি করে তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, মামলা থাকার পরও প্রকাশ্যে চলাফেরা এবং সীমান্ত এলাকায় প্রভাব বিস্তারের বিষয়টি উদ্বেগজনক। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সীমান্তকেন্দ্রিক অবৈধ পারাপার ও চোরাচালানের অভিযোগের সত্যতা উদঘাটন হতে পারে বলেও দাবি তাদের।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে জৈন্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লার বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। অন্যদিকে জালাল উদ্দিনের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ পারাপার, চোরাচালান ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বিজিবি ও পুলিশের সমন্বিত নজরদারি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

১২ আগস্ট ২০২৬

রাজনৈতিক পালাবদলেও কমেনি জালালের দাপট,জৈন্তাপুর সীমান্তে চোরাচালানের অভিযোগ

বিস্তারিত কমেন্টে