• ১৮ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ,

‘ভাঙ্গারি কালামের’ ছত্রছায়ায় যুবলীগ নেতা নজরুলের জমি দখল-চাঁদাবাজি

Daily Sonali Sylhet
প্রকাশিত আগস্ট ১৭, ২০২৬
‘ভাঙ্গারি কালামের’ ছত্রছায়ায় যুবলীগ নেতা নজরুলের জমি দখল-চাঁদাবাজি

স্টাফ রিপোর্টার: সিলেটে জমি দখল, চাঁদাবাজি, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি এবং নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা আবুল কালামের বিরুদ্ধে। এলাকায় তিনি ‘ভাঙ্গারি কালাম’ নামে পরিচিত বলে স্থানীয়দের দাবি। অভিযোগ রয়েছে, সিলেট সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক নেতা ও বর্তমানে ৩১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হামলার মামলার আসামি এবং সাবেক মহানগর যুবলীগ নেতা নজরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ হিসেবে কাজ করছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, নজরুলের বিভিন্ন বিরোধ ও জমি-সংক্রান্ত বিষয় মীমাংসার নামে আবুল কালাম তাকে সহযোগিতা করে আসছেন।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর থেকে পলাতক ও একাধিক মামলার আসামি নজরুল ইসলামকে আইনি ও রাজনৈতিকভাবে সুরক্ষা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এ নিয়ে নজরুলকে সঙ্গে নিয়ে আবুল কালাম সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী এবং সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ও জেলা বিএনপির উপদেষ্টা আব্দুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট বিএনপি নেতারা বিষয়টিকে রাজনৈতিক সমঝোতা বা আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ হিসেবে স্বীকার করেননি।

অনুসন্ধানে স্থানীয়দের কাছ থেকে পাওয়া অভিযোগ অনুযায়ী, গোলাপগঞ্জ উপজেলার তুরুকবাগ গ্রামের বশির মিয়ার ছেলে নজরুল ইসলাম একসময় সিলেটের বন্দরবাজার ও লালবাজার এলাকায় হকারি করতেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার মাধ্যমে তিনি জমি দখল ও ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

তার বিরুদ্ধে মধুবন মার্কেটের কয়েকটি দোকান এবং হাউজিং এস্টেট এলাকায় সরকারি জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগও রয়েছে। এছাড়া আখালিয়ার টিলারগাঁও এলাকায় প্রায় আড়াই কোটি টাকা মূল্যের জমি জবরদখল করে বসবাস এবং স্থানীয় বিএনপি-জামায়াতের কিছু নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করে বিতর্কিত জমির কাগজপত্র তৈরির অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে যুবলীগ নেতা নজরুল ইসলাম, বিএনপি নেতা আবুল কালাম এবং তাদের সহযোগী লাল মিয়া ওরফে প্রকাশ মিয়ার বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে আদালতে মামলা করেছেন সিলেট জেলা বারের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মকসুদ আহমদ সাহান। মামলা নং-২২/২০২৪।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, জমি সংস্কারের কাজে বাধা দিয়ে অভিযুক্তরা দলবল নিয়ে সেখানে প্রবেশ করে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আইনজীবী ও তার বাবাকে ধাওয়া করার অভিযোগও করা হয়েছে। বিষয়টি সিলেট সেনানিবাসের অধিনায়ককে লিখিতভাবে জানানোর পাশাপাশি সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও দ্রুত বিচার আদালতেও মামলা করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির উপদেষ্টা আব্দুর রহমান বলেন, আবুল কালামের মাধ্যমে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের কথা জানতে পেরে তিনি নজরুলের বাসায় গিয়েছিলেন। বিরোধটি সমাধানের জন্য স্থানীয় এক সাবেক ইউপি সদস্যকে দায়িত্ব দেওয়ার কথাও জানান তিনি। সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, “আবুল কালাম ওই যুবলীগ নেতাকে আমার অফিসে নিয়ে এসেছিলেন। জমি-সংক্রান্ত বিরোধের কথা বললে আমি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছি, এটি আইনি বিষয় এবং আইনগতভাবেই সমাধান করতে হবে। ওই নজরুল কে বা কোন দলের, তা আমার জানা ছিল না।”

অভিযোগের বিষয়ে নজরুল ইসলাম মোবাইল ফোনে বলেন, তিনি বর্তমানে কোনো রাজনৈতিক পদে নেই। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ যেসব অভিযোগ করা হচ্ছে, সেগুলো মিথ্যা। অ্যাডভোকেট মকসুদ আহমদের দায়ের করা দুটি মামলার রায় তার পক্ষে এসেছে বলেও দাবি করেন তিনি। অন্যদিকে, আবুল কালামের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কোনো ব্যক্তি যদি বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকেন কিংবা অন্য দলের বিতর্কিত নেতাকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেন, তাহলে দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্যতা যাচাই এবং প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

১৭ আগস্ট ২০২৬

‘ভাঙ্গারি কালামের’ ছত্রছায়ায় যুবলীগ নেতা নজরুলের জমি দখল-চাঁদাবাজি

বিস্তারিত কমেন্টে