
শাল্লা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার ৩ নম্বর বাহাড়া ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে চার দিন ধরে অনশন করছেন এক স্কুলছাত্রী। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে সরেজমিনে ওই বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, রফিকুল ইসলাম রকিবের বাড়ির বারান্দায় বসে রয়েছেন ওই তরুণী। সাংবাদিকদের কাছে কান্নাজড়িত কণ্ঠে ওই তরুণী অভিযোগ করে বলেন, রকিবের সঙ্গে তাঁর প্রায় তিন বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক। এ সময়ে তাঁদের মধ্যে স্বামী-স্ত্রীর মতো সম্পর্ক হয়েছে। পরে তাঁকে বিয়ের কথা বলে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে তাঁকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ওই তরুণীর দাবি, এরপর রকিবের বড় ভাই শহিদুল ইসলামসহ পরিবারের লোকজন তাঁকে ঘর থেকে বের করে দিয়ে ঘরে তালা লাগিয়ে চলে যান। গত চার দিন ধরে তিনি ওই বাড়িতে অবস্থান করছেন। তাঁকে বিয়ে না করলে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হবেন বলেও তিনি জানান। এ বিষয়ে রফিকুল ইসলাম রকিবের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
রকিবের বড় ভাই শহিদুল ইসলামের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্র। আমাদের ফাঁসানোর জন্যই এমনটা করা হচ্ছে। আমার ভাই যদি অপরাধী হয়, তাহলে সে থানায় মামলা করুক। অনশন করবে কেন?’ স্থানীয় মুরব্বি ও বিএনপি নেতা মাহবুব হোসেন (শিশু মিয়া )বলেন, ‘মেয়েটি চার দিন ধরে রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে এখানে বসে আছে। বিষয়টি সমাধানের জন্য আমরা স্থানীয়ভাবে অনেক চেষ্টা করেছি। সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হলেও ছেলেপক্ষ তা মানছে না।’
এ বিষয়ে শাল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোহেলের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি বিষয়টি অবগত ছিলাম না। এখনই পুলিশ পাঠাচ্ছি। অভিযোগে পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা চলছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে বলে জানা গেছে।