
কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি: সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম ইসলামপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের শাহ আরেফিন বাজারে সমাজকল্যাণ ও আর্থসামাজিক উন্নয়ন প্রকল্পের (ঋণ কর্মসূচি) নামে কথিত কার্যালয় খুলে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মাত্র তিন দিন কার্যক্রম পরিচালনার পরই কার্যালয় বন্ধ করে টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যায় চক্রটির পাঁচ সদস্য।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঢাকা ও কুমিল্লার বাসিন্দা পরিচয়ে রফিক মিয়া, রাসেল আহমেদ, সাইফুলসহ পাঁচজনের একটি দল এ প্রতারণার সঙ্গে জড়িত। তারা সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ১ নম্বর ইসলামপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের নিজগাঁও বাগানবাড়ি, কোম্পানীগঞ্জের বাহাদুরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে ঋণগ্রহীতা গ্রুপ ও গ্রুপপ্রধান নারীদের টার্গেট করে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, চক্রটি সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন গ্রুপের সদস্য সংগ্রহ করে। পরে ঋণ দেওয়ার কথা বলে প্রতি এক লাখ টাকার বিপরীতে ১১ হাজার টাকা করে সঞ্চয় জমা নেয়। এভাবে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা সংগ্রহের পর তারা কার্যালয় বন্ধ করে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাগানবাড়ি গ্রামের জমসিদ আলী (পিতা ফজর আলী) ৩৩ হাজার টাকা, সোহানা বেগম (স্বামী রমজান আলী) ৩৩ হাজার টাকা, তৈয়ব আলী (পিতা শেখ আহমদ) ১১ হাজার টাকা এবং তাহমিদা বেগম (স্বামী আমীর হোসেন) ১১ হাজার টাকা দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে, কোম্পানীগঞ্জের বাহাদুরপুর গ্রামের মো. রোকন মিয়া (পিতা ইয়াকুব আলী) ১০ হাজার টাকা এবং নাসিমা বেগম (স্বামী ইব্রাহিম) ৩৩ হাজার টাকা দিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তালিকাভুক্ত এই ছয়জনের কাছ থেকে মোট ১ লাখ ৩১ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে এ ঘটনায় আরও কেউ প্রতারণার শিকার হয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
প্রতারণার শিকার ব্যক্তিরা জানান, এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে শাহ আরেফিন বাজারের সংশ্লিষ্ট ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা প্রয়োজন। তাঁরা প্রশাসনের কাছে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে অভিযুক্তদের শনাক্ত, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
একই সঙ্গে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ রক্ষায় এ ধরনের প্রতারণার বিরুদ্ধে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদারের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।