• ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ,

টার্গেটে সাড়ে ৪ হাজার কুকুর, জলাতঙ্কের টিকাদান শুরু

Daily Sonali Sylhet
প্রকাশিত অক্টোবর ১২, ২০২৬
টার্গেটে সাড়ে ৪ হাজার কুকুর, জলাতঙ্কের টিকাদান শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেট মহানগর এলাকার সাড়ে ৪ হাজার কুকুরকে জলাতঙ্কের টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। ৪২টি ওয়ার্ডে আগামী ১৫দিন চলবে এই কার্যক্রম। তবে এরপরও প্রয়োজন হলে কর্মসূচি আরও সম্প্রসারিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রণী সম্পদ অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা। সোমবার (১২ অক্টোবর) নগরীর মির্জা জাঙ্গালের জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়ে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এতে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। কর্মসূচিতে অর্থায়নে করছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন।

এর আগে ২০১৮-১৯ মওসুমে সর্বশেষ সিলেটে বেওয়ারিশ কুকুরদের জলাতঙ্কের টিকা দেওয়া হয়েছিল। সেবার ৩ হাজার কুকুরকে টিকা দেওয়া হলেও এবার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ থেকে সাড়ে ৪ হাজার। সিলেট মহানগর এলাকায় কুকুরের উৎপাত নতুন কিছু নয়। বিভিন্ন এলাকায় তারা দলবেঁধে ঘুরে বেড়ায় এবং প্রায়ই হামলা করে নিরীহ নগরবাসীর উপর। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের উপর।

বাণিজ্যিক এলাকার হোটেল রেঁস্তোরাগুলোর ফেলে দেওয়া খাবারের লোভে তারা রাতে ক্ষুদার্থ দৈত্যের মতো রাজপথে নামে। ওই সময়টাতে রাস্তায় চলাচলকারীদের চরম আতঙ্কে থাকতে হয়। তবে কুকুরকে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন প্রয়োগের পর সিলেটে এই রোগের উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় হ্রাস পেয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম।

তবে গরুসহ অন্যান্য গৃহপালিত পশু এবং সাধারণ নাগরিকদের জলাতঙ্ক রোগ থেকে মুক্ত রাখতে আবারও কুকুরকে ভ্যাকসিন দেওয়ার প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয় সিলেট সিটি কর্পোরেশন। তাদের সার্বিক সহযোগীতা করছে প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর সিলেট জেলা জেলা কার্যালয়।

প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, সোমবার থেকে পরবর্তী ১৫ দিন ধরে প্রতিদিন নগরীর ৪২টি ওয়ার্ডে তাদের ৪টি টিম ভ্যাকসিন প্রয়োগ করবে। প্রতিটি টিমে সদস্য আছেন ৫ জন। তাদের মধ্যে ৩ জন ডগ কেচার, একজন টিকাদাতা ও একজন থাকবেন স্থানীয় প্রতিনিধি। তিনি টিকা দেওয়া কুকুরটিকে চিহ্নিত করতে রঙ দিবেন। একেকটি টিম প্রতিদিন অন্তত ১০টি ওয়ার্ডে কাজ করবে।সিলেট জেলা

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, সিলেট নগরীকে সুন্দর ও নিরাপদ করার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো কুকুরের টিকাদান। প্রাণী নিধন করা যাবে না। তাই কুকুরকে টিকা দেওয়ার মাধ্যমে নগরবাসীকে জলাতঙ্কের ঝুঁকি থেকে নিরাপদ রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন এলাকা ও প্রতিষ্ঠান থেকে কুকুরের উপদ্রব নিয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর সিটি কর্পোরেশন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রাণী সম্পদ বিভাগ সমন্বিতভাবে এ কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. জোনায়েদ কবীরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিসিকের সচিব মো. আশিক নূর, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম, ম্যাস ডগ ভ্যাকসিনেশন এক্সপার্ট ডা. হাবিবুর রহমান, ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ভেটেরিনারি সার্ভিসের টিম কো-অর্ডিনেটর ডা. মো. কামরুল ইসলাম ও হাসান সাইয়েদুল মুরসালিন।

উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রতিনিধি ডা. আবু সালমান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নাহিদ আরজুমান বানু, ডা. আব্দুস শহিদ হোসেন, ডা. আব্দুল্লাহ আল মাসুদ ও ডা. শারমিন আক্তার।

১২ অক্টোবর ২০২৬

টার্গেটে সাড়ে ৪ হাজার কুকুর, জলাতঙ্কের টিকাদান শুরু

বিস্তারিত কমেন্টে