
সাহেদুর রহমান, জৈন্তাপুর প্রতিনিধি: সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার মোকামপুঞ্জি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ সুনন্দা রায়। এ সময় তিনি ভবনের বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষ ও ক্ষতিগ্রস্ত অংশ ঘুরে দেখেন। আগামী শনিবার থেকে সংস্কারকাজ শুরু করে ১০ দিনের মধ্যে তা সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে।
পরিদর্শনকালে উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম, শিক্ষা কর্মকর্তা আনোয়ার পারভেজ, প্রধান শিক্ষক আজমল আলী ও সাংবাদিক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ইমাম উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯২ সালে নির্মিত ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলাকালে ছাদের একটি অংশের প্লাস্টার ধসে পড়ে। এতে অল্পের জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পায় শিক্ষার্থীরা। ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাঁটলসহ প্লাস্টার খসে পড়ার আশঙ্কা থাকায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়।
জানা গেছে, এর আগেও বিদ্যালয় ভবনটি সংস্কার করা হয়েছিল। তবে কয়েক বছরের মধ্যেই ভবনের বিভিন্ন অংশ আবারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে। ফলে বারবার সংস্কার করা হলেও ভবনটির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ কাটছে না। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত সংস্কার কাজের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজার ছুটিতে বিদ্যালয় বন্ধ থাকার সময় সংস্কারকাজ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
তবে বারবার সংস্কারের পরিবর্তে বিদ্যালয়টিতে নতুন ভবন নির্মাণের আশা প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। তাঁদের মতে,শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশে পাঠদান নিশ্চিত করতে স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নতুন ভবন নির্মাণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
উল্লেখ্য, গত ৮ অক্টোবর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ‘মোকামপুঞ্জি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন চরম ঝুঁকিপূর্ণ, ক্লাস চলাকালে ছাদের অংশ ধসে পড়েছে’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ভবন,ছাদের বিভিন্ন অংশে ফাঁটলসহ প্লাস্টার ধসে পড়া এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছিল।
সংবাদ প্রকাশের পর ইউএনওর বিদ্যালয় পরিদর্শন ও সংস্কারের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।তাঁদের প্রত্যাশা,সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করবেন।