• ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ,

পাঁচ শতাব্দীর ঐতিহ্য আজ পানির নিচে! সুরমায় অর্ধেক ডুবে আছে রুস্তমপুর জামে মসজিদ

Daily Sonali Sylhet
প্রকাশিত অক্টোবর ১৭, ২০২৬
পাঁচ শতাব্দীর ঐতিহ্য আজ পানির নিচে! সুরমায় অর্ধেক ডুবে আছে রুস্তমপুর জামে মসজিদ

গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি: নদীর বুকে হারিয়ে গেছে মসজিদের অধিকাংশ অংশ। অবশিষ্ট রয়েছে সামান্য কিছু। একসময় যেখানে মুসল্লিদের পদচারণায় মুখর থাকত প্রাঙ্গণ, সেখানে এখন সুরমা নদীর ভাঙনের ক্ষতচিহ্ন। স্থানীয়ভাবে প্রায় ৫০০ বছরের পুরোনো বলে পরিচিত সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার রুস্তমপুর জামে মসজিদ আজ অস্তিত্বের সংকটে। প্রায় দুই বছর আগে নদীভাঙনে মসজিদটির অধিকাংশ অংশ বিলীন হয়ে যায়। এখন অবশিষ্ট অংশটুকুই যেন অতীতের দীর্ঘ ইতিহাসের শেষ দৃশ্যমান স্মৃতি।

মসজিদটি গোলাপগঞ্জ উপজেলার ১ নং বাঘা ইউনিয়নের রুস্তমপুর গ্রামে অবস্থিত। দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের ধর্মীয় জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই স্থাপনাটি স্থানীয়ভাবে ঐতিহ্যের নিদর্শন হিসেবে পরিচিত। কিন্তু সুরমা নদীর ভাঙনে মসজিদের অধিকাংশ অংশ হারিয়ে যাওয়ায় প্রাচীন এই স্থাপনার অস্তিত্ব ও সংরক্ষণ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় দুই বছর আগে ধীরে ধীরে সুরমা নদীর ভাঙনে মসজিদটির বড় অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এতে মসজিদটি তার আগের অবয়ব হারায়। বর্তমানে সামান্য অংশ টিকে থাকলেও সেটির ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। তবে অবশিষ্ট অংশটি কতটা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, তা নির্ধারণে সরেজমিনে কারিগরি মূল্যায়ন প্রয়োজন।

নদীভাঙনে বসতভিটা, ফসলি জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা হারানো নদীতীরবর্তী এলাকার মানুষের কাছে পরিচিত বাস্তবতা। কিন্তু কোনো প্রাচীন ধর্মীয় স্থাপনা বিলীন হলে শুধু একটি ভবনই হারিয়ে যায় না, হারিয়ে যায় স্থানীয় ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যমান নিদর্শনও। রুস্তমপুর জামে মসজিদের ক্ষেত্রেও সেই আশঙ্কা বাস্তবে রূপ নিয়েছে। স্থানীয়ভাবে প্রায় পাঁচ শতাব্দীর পুরোনো বলে পরিচিত এই মসজিদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে উদ্যোগ নেওয়ার দাবি উঠছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও মসজিদের ইমাম জসিম উদ্দিন পারভেস বলেন, মসজিদটি আমাদের এলাকার প্রায় ৫০০ বছরের পুরোনো ঐতিহ্য। সুরমা নদীর ভাঙনে মসজিদের অধিকাংশ অংশ বিলীন হয়ে গেছে। এখন সামান্য অংশ অবশিষ্ট রয়েছে। মসজিদটির সঙ্গে এলাকার মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি ও ইতিহাস জড়িয়ে আছে। অবশিষ্ট অংশটুকুও হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আমরা চাই, মসজিদের এই অংশটুকু সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হোক।

প্রায় দুই বছর আগে মসজিদটির অধিকাংশ অংশ হারিয়ে যাওয়ার পর এখন অবশিষ্ট সামান্য অংশই স্থানীয় ঐতিহ্যের শেষ দৃশ্যমান স্মারক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া গেলে এই নিদর্শন সংরক্ষণের সম্ভাবনা যাচাই করা সম্ভব। অন্যথায়, নদীভাঙনের ধারাবাহিকতায় রুস্তমপুরের প্রাচীন এই মসজিদের শেষ চিহ্নটুকুও হারিয়ে যেতে পারে।

১৭ অক্টোবর ২০২৬

পাঁচ শতাব্দীর ঐতিহ্য আজ পানির নিচে! সুরমায় অর্ধেক ডুবে আছে রুস্তমপুর জামে মসজিদ

বিস্তারিত কমেন্টে